Monday , July 16 2018
Breaking News

মা- আমি আর বাঁচতে চাই না, একটু বিষ এনে দাও

মা- আমি আর বাঁচতে চাই না- শরণখোলা সোনাতলা গ্রামের একজন কিশোরী দেড় মাস আগেও সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসায় যেতেন। কিন্তু এখন সে আর মাদ্রাসায় যায় না। প্রশ্ন জাগতে পারে সবার কেন? কারণ কি? কারণ হলো- স্থানীয় তিন জন বখাটের যৌন লালসার শিকার হওয়ায় সে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মা এ ঘটনার পর ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে শরণখোলা থানায় যান। ওই কিশোরীর মায়ের অভিযোগ- পুলিশ অপরাধীদের বাঁচিয়ে মামলা গ্রহণ করে। ফলে ধর্ষকরা এখনো এলাকাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফেরার পথে তিন জন বখাটে তাকে ইভটিজিং শুরু করে। সে সময় অজ্ঞাত এক পথচারী যুবক এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। ওই যুবক প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে আইউব হাওলাদার (২২), নান্না মিয়া (২৫) ও মিজান মাতুব্বর (২৩) ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।

বখাটেরা এ সময় ওই পথচারী যুবককেও আটক করে। তারপর ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর সঙ্গে পথচারী ওই যুবকের কথিত প্রেমের অভিযোগ তুলে বিচারের নামে উভয়কে মধ্য মাঠের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় বখাটেরা।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ওই যুবককে মারধর করে একটি গাছে সঙ্গে বেঁধে রেখে ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আইউব, মিজান ও নান্না।

পরবর্তীতে এ ঘটনা নিয়ে মুখ খুললে ওই মাদ্রাসা ছাত্রী ও পথচারী যুবক উভয়কে হত্যার হুমকি দেন ধর্ষকরা। এ খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যান ওই কিশোরীর মা।
ওই কিশোরীর মা জানান, এ সময় বখাটেরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন- আপনার মেয়ের চরিত্র ভালো না, বাজে চরিত্র, সে রাতে বেলা মাঝ মাঠে অচেনা এ যুবকের সঙ্গে এসব কি করছে? মা হয়ে আপনি তার কোনো খোঁজ খবর রাখেন না?

এরপর তিনি তার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে এসে ওই কিশোরী তার মাকে কেঁদে কেঁদে বলে মা- আমি তোমার মেয়ে, আমি খারাপ না। বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওরা (বখাটেরা) আমাকে জোর করে বেঁধে মধ্য মাঠে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে।

এটা বলার পরে ওই কিশোরী বলে, মা- আমি আর বাঁচতে চাই না, তুমি ভাতের পরিবর্তে আমাকে একটু বিষ এনে দাও। তাহলে তুমি-আমি উভয়েই মুক্তি পাবো।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি নরপিশাচদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থানা পুলিশের কাছে যান। কিন্তু পড়ালেখা না জানায় অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ধর্ষণ মামলার পরিবর্তে রুজু করে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা। এ ঘটনার আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশ ওই ছাত্রীর পোশাক গ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে তার কোনো ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, উল্টো ওই কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে আদালতে জবানবন্দিতে পুলিশের শেখানো কথা বলতে বাধ্য করা হয় বলে জানা যায়।

জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এছাড়া প্রভাবশালীদের চাপের মুখে এখন ওই পরিবারটি অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী (ওই পথচারী যুবক) যশোর মণিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা ইসমাইল দফাদারের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক শিমুল দফাদার (২২) বলেন, ওই মেয়েটির সঙ্গে তার কোনো জানা শোনা বা পরিচয় নেই। ত

বে ওই দিন বাজারে যাওয়ার পথে ৩ বখাটে ওই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করছিল। আমি তার প্রতিবাদ করায় আমাকে সহ মেয়েটিকে ধরে মধ্য মাঠে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় তারা।

ওখানে নিয়ে বখাটেরা আমাকে খুব মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ৩ বখাটে মিলে। পরে তাকে ধর্ষক সাজিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে তুলে দিয়ে সরে পড়ে আসল ওই ধর্ষকরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক নান্নার পিতা আ: রহমান হাওলাদার দাবি, স্থানীয় একটি মহল তার ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে সাউথখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আবু রাজ্জাক আকন জানান, অভিযুক্ত আইউব, মিজান ও নান্না দীর্ঘ দিন যাবত এলাকায় এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এ ঘটনার বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামরুল ইসলাম জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার ব্যর্থতার দায় পুলিশ বহন করবে না বলে জানান ওসি মো: কামরুল ইসলাম ।