Monday , July 16 2018
Breaking News

ফাঁসির ১২ বছর পরেও সাদ্দামের মরদেহ নিয়ে রহস্য!

সাদ্দাম হোসেন আবদুল মাজিদ আল তিকরিতি ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি জুলাই ১৬, ১৯৭৯ থেকে এপ্রিল ৯, ২০০৩ নাগাদ ইরাকের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

প্রথমে সাদ্দাম হোসেন জেনারেল আহমেদ হাসান আল বকরের উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সেই সময় সাদ্দাম দৃঃঢ় ভাবে সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটান। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করেন।
ইরাকের রাষ্ট্রপতি ও বাথ পার্টির প্রধান হিসেবে সাদ্দাম হোসেন আরব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্ম নিরপেক্ষ ও আধুনিক ইরাক গড়ে তুলতে প্রয়াস নেন। সাদ্দাম এক দলীয় শাসন কায়েম করেন। এসময়ই সাদ্দাম ইরানের সাথে ৯ বছরের যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন (১৯৮০-১৯৮৮)।

ইরাক-ইরান যুদ্ধের পরে ১৯৯১-এ সাদ্দাম উপসাগরীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন। সাদ্দাম তার মতে ইরাকের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধের সকল পক্ষকে নির্মুল করার উদ্যোগ নেন। এই বিরুদ্ধ পক্ষে ছিল উপজাতীয় ও ধর্মীয় গোত্র গুলো যারা স্বাধীনতা দাবি করছিল। যেমন, ইরাকি শিয়া মুসলমান, কুর্দি, ইরাকি তুর্কি জনগন। ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে কতিপয় আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে। তারা এই যুক্তি দেখিয়ে আক্রমণ করে যে, সাদ্দাম ব্যাপক ধ্বংসাত্বক জীবানু অস্ত্র তৈরি করছেন (যদিও যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এমন কোন অস্ত্রের হদিস পাওয়া যায় নাই)। ১৩ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন আমেরিকান সেনাদের কাছে ধরা পড়েন। পরবর্তিতে আমেরিকা ইরাকি সরকারের হাতে সাদ্দাম হোসেনের বিচার করে। সাদ্দামের বিরুদ্ধে ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইরাকি সময় সকাল ৬.০৬ মিনিটে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর হয়। পরে তাকে নিজ গ্রাম আল-আওজাহ’য় দাফন করা হয়। এরমধ্যে পেরিয়ে গেছে ১২ বছর। কিন্তু কবরে সাদ্দাম হোসেনের মৃতদেহ আছে কিনা সেটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াদের হামলায় সাদ্দামের কবর ধ্বংস হয়ে যায়। অনেকের ধারণা সাদ্দামের কবর খোলা হয়েছিল। এমনকি কিছু মানুষ মনে করে, সাদ্দামের মেয়ে হালা তার মৃতদেহ জর্ডানে নিয়ে গেছে।

কিন্তু একজন অধ্যাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে উগান্ডার পত্রিকা মনিটর জানাচ্ছে, এটা অসম্ভব। ওই অধ্যাপক বলেন, হালা কখনই ইরাকে আসেননি। সাদ্দামের মৃতদেহ কোনো গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। কেউ কাজে কে সাদ্দামের মৃতদেহ সরিয়েছে এবং সেটি কোথায়।

তবে সাদ্দামের কবর তার বাবার কবরের মতো উড়িয়ে দেয়া হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষ এমনও আছেন যারা বিশ্বাস করেন যে ইরাকের স্ট্রংম্যান এখন জীবিত আছেন। তেমনই একজন হচ্ছেন বাগদাদের বাসিন্দা আবু সামের। তিনি বলেন, সাদ্দাম মারা যাননি। তার একটি ডাবলকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।

ইরাকি শাসকের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সাদ্দামের মৃতদেহ উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিকরিতে কাছে আল আওজাহ’য় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।