Sunday , December 16 2018
Breaking News

বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না শাহিনার

কলেজছাত্রী শাহিনার (২৪) সঙ্গে ইতালি প্রবাসী এক ছেলের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। বৃহস্পতিবার ছেলে পক্ষ এসে বিয়ের দিনতারিখ ঠিক করবেন। সেভাবেই প্রস্তুতি ছিল পরিবারটির। কিন্তু, বুধবার রাতের আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। শাহিনার সঙ্গে তার মা রোকেয়াও (৫৫) চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুজবল গ্রামের ওয়াছির মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে ফ্রিজের কমপ্রেসার বিস্ফোরণ হলে দগ্ধ হন রোকেয়া, তার মেয়ে শাহিনা ও ছেলে মুন্না (২১)।

আগুনের পর তারা বাঁচার আকুতি জানিয়ে কলাপসিবল গেটে এসে আর্তচিৎকার করছিলেন। কিন্তু, প্রতিবেশীরা এসে গেটের তালা ভেঙে বের করার আগেই আগুনে তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়।
তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর মা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথে মারা যান রোকেয়া। মুন্না ঢামেক বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।

নিহত রোকেয়ার স্বামী প্রবাসী ওয়াছির মিয়া এক বছর আগে স্ট্রোক করে মারা যান। তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েকে আগেই বিয়ে দিয়েছেন।

ছেলে মুন্না ও মেয়ে শাহিনাকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন রোকেয়া। নিহত শাহিনা মৌলভীবাজার মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। আর মুন্না মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে বিবিএ প্রথম বর্ষে পড়ছেন।
রোকেয়ার দেবর শামসুল হক জানান, ছেলে পক্ষ আসবে বলে বুধবার বিকেলে শাহিনাকে তার ভাই মুন্না নানা বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের আলাপুর থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সকলেই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপরেই ঘটে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা।

রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক জানান, ফ্রিজের পাশে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে কমপ্রেসার বিস্ফোরণে ঘরে আগুন লেগে যায়। সে আগুনে দগ্ধ হয়ে শাহিনা ও মা রোকেয়া মারা যান।

মা-মেয়ের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছাড়া নেমে আসে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।