Thursday , October 18 2018
Breaking News

বয়স কম, দায়িত্ব বেশিবড় বোন বলে কথা!

হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে ছোট বোন আঁখি (২), আর ওর সেবা করছে বড় বোন আলো (৯)। শিশু দুটির মা বাজারে কাজ করতে গেছে। এ কথা তারা আগে থেকেই জানে।

দশ দোকানে পানি দিয়ে আরো দুই বাসায় কাজ শেষে ফিরবে আঁখি-আলোর মা। আর মা না আসা পর্যন্ত ছোট বোন আঁখিকে দেখা শোনার দায়িত্ব বড় বোন আলো। ৯ বছরের আলো বয়সে বড় না হলেও দায়িত্ব নিতে শিখেছে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তো এভাবেই শিখতে হয়েছে তাদের।

বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে পেটের ব্যাথা শুরু হলে শুক্রবার হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকের পরামর্শে আঁখিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু আঁখির সাথে হাসপাতালে আসে তার বড় বোন আলোও।

শুক্রবার বিকেলে আঁখির ব্যাপারে জানতে চাইলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শম্পামোদক জানান, বর্তমানে শিশুটির অবস্থা ভালো। আশা করছি দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবে শিশুটি।

আলো প্রতিবেদকে জানায়, এক বছর আগে তার বাবা আলম শেখ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে সংসারের হাল ধরেন তার মা।

তার মা বাসায় বাসায় কাজ করেন আর বাজারে দশটি দোকানে তিন বেলা পানি সরবরাহ করেন। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তাদের মা-মেয়ের সংসার।

আলো জানায় সে ও তার বোন আরিফা (৮) দুই জনেই উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তারা যখন স্কুলে থাকে, তখন মা ছোট বোন আঁখিকে দেখাশুনা করে। স্কুল ছুটি হলে তারা দুইজন আঁখিকে দেখভাল করে।

‘মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করে। মায়ের জন্য খুব কষ্ট হয়। পড়াশুনা করে একদিন ডাক্তার হবে। বাবার মতো তাদেরকে অসুখে মরতে দিবে না’। আবেগের স্বরে প্রতিবেদকে কথাগুলো বলছিলো আলো।

আলোর মা নাজমা কাজ শেষে হাসপাতালে আসলে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পশু হাসপাতাল পাড়ায় মাসিক ৩৫০টাকা চুক্তিতে এক খন্ড জমি ভাড়া নিয়ে কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরী একটি খুপরি ঘরে তিন মেয়ে আলো, আরিফা ও আঁখিকে নিয়ে থাকেন তিনি। প্রায় ১৪ বছর আগে কুষ্টিয়ার রাহিনী পাড়ার আলম শেখের সাথে বিয়ে হয় তার। স্বামী পুরাতন কাগজ কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। হঠাৎ কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর (২০১৭) রমজান মাসে মারা যান তিনি।

স্বামীর মৃত্যু পর সংসারের ভার উপরে বর্তায় তার উপর। প্রথমে উপজেলায় কয়েকজনের রান্নার কাজ নেন। কিন্তু সেখান থেকে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চলছিলো না। পরে ওই কাজ ছেড়ে দুইটি বাসায় কাজ নেন ও কয়েকটি দোকানে পানি সরবরাহের কাজ নেন। এতে মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হয়। এই স্বল্প আয়েই কোন রকম চলে যায়।

‘মেয়ে দুটো পড়তে চায়। তাই তাদের স্কুলে পাঠাই। কিন্তু কতো দিন তাদের পড়াতে পারবো তা কে জানে’-দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে বিধাবা নাজমা খাতুন।

নাজমার বাবার বাড়ি জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার গান্না গ্রামে। বাবা-মা দুই জনই জীবিত আছেন। তারাও দিন আনে দিন খায়। একটু থেমে নাজমা বলেন সমাজের বিত্তবানেরা এগিয়ে আসলে হয়তো মেয়েদের পড়া লেখা করাতে পারতাম।