Wednesday , August 22 2018
Breaking News

মৃত্যুর আগেই শরীর পোকায় খেয়েছে!

অল্প বয়সে রূপ যৌবন দেখিয়ে ভালোই নাম করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রেবেকা জানি। ষোড়শ শতকের দিকে মডেল হিসেবে বেশ নাম ডাক ছিল তার। কিন্তু বৃদ্ধাবস্থায় ৯৩ বছর বয়সে এমন মৃত্যু তার ঘটে, যা এক কথায় ভয়ানক। অবশ্য এই মডেলের মৃত্যু হয়েছিল ২০১৫ সালে। কিন্তু বৃদ্ধাবস্থায় মৃত্যু হলেও তা স্বাভাবিক চোখে দেখেনি পরিবারের স্বজনেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি নার্সিংহোমে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি ছিলেন রেবেকা জানি। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। স্বজনেরা মৃত্যু রহস্যের জন্য তদন্তের আবেদন জানালে সম্প্রতি তার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, জীবন্ত অবস্থাতেই স্ক্যাবিস নামে এক ধরনের পরজীবী পোকা তাকে খুবলে খেয়েছে। যার কারণেই মৃত্যু হয় সাবেক এই মডেলের।

স্মৃতিভ্রংশতায় আক্রান্ত রেবেকা ওই নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে। তিনি যে বিভাগে ভর্তি ছিলেন, সেখানে স্ক্যাবিস পোকা রয়েছে বলে আগে থেকেই বদনাম ছিল। যদিও নার্সিং হোমটির কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না। বৃদ্ধাকে ভর্তি করার সময়েও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

ফলে পরজীবী পোকার সংক্রমণের ফলে ধীরে ধীরে শরীরে পচন ধরতে শুরু করে রেবেকা জানির। সম্প্রতি অটোপসি রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা গেছে।

কিন্তু পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেছিলেন। তাদের অভিযোগের ফলেই সম্প্রতি বের হয়ে আসে আসল সত্যটি। তবে তা খুবই ভয়ঙ্কর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানায়, এই পরজীবী পোকাগুলো মূলত মানুষের চামড়ার প্রথম স্তর ভেদ করে। এরপর সেখানেই বসবাস ও বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। একপর্যায়ে এই পোকা পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়।

যৌবনে মডেলিং করলেও পরে মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন রেবেকা। অংশ নিয়েছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। নিউইয়র্কে মডেলিং করা ছাড়াও শিকাগোর একটি টিভি চ্যানেলেও তিনি কাজ করেছিলেন। বৃদ্ধাবস্থায় স্মৃতিভ্রংশতাসহ শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দিলে ২০১০ সালে তার মেয়ে নার্সিংহোমে রেবেকা জানিকে ভর্তি করান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ওই নার্সিংহোমের বিরূদ্ধে পুলিশকে জানায় রেবেকার পরিবার। তদন্তের পর দেশটির কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (Central for Disease Control and Prevention) জানায়, এই পরজীবী পোকার কারণেই মারা যান রেবেকা জানি।


ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রেবেকার শরীরে এই ধরনের প্রায় কয়েক কোটি পোকা বাসা বেঁধেছিল। ফলে তার মৃত্যু যে খুবই যন্ত্রণাদায়ক হয়েছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তাছাড়া মৃত্যুকালে রেবেকার শরীর এতোটাই পঁচে গিয়েছিল যে, মরদেহ উঠানোর সময়ে তার হাত পা শরীর থেকে খুলে যেতে পারে বলে চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন।

এমনকি হাসপাতালের কর্মীরা প্রকাশ না করলেও রেবেকাকে ছুঁলে স্ক্যাবিস তাদের শরীরেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে তা ছুঁতে চাননি। হাসপাতালের কর্মীদের মনে এতোটাই আতঙ্ক কাজ করছিল।