Friday , October 19 2018
Breaking News

যে পোকা কেড়ে নিল মডেলের জীবন

এমনটাও যে হতে পারে ভাবতেই পারেননি রেবেকা জেনি। কিন্তু, তাঁর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ। কারণ জেনির মৃত্যু যেভাবে হয়েছে তার জন্য দায়ী একদল পোকা। হাজার খানেক এমন প্রাণঘাতী পোকা জেনির শরীরকে ভিতরে খুবলে খুবলে খেয়েনিয়েছিল। ফরেনসিক প্যাথলজির রিপোর্টে এমনই তথ্য সামনে এসেছে। চিকিৎসকরা বলছেন জেনি-কে কতটা কষ্টদায়য়ক মৃত্যুর শিকার হতে হয়েছে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

ভয়ঙ্কর হলেও সত্যি, আপনিও শিকার হতে পারেন এদের।

এই পোকাদের দল জেনির চামড়ার ভিতরে গর্ত বানিয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আর সেই গর্তের মধ্যে দিয়েই পোকাগুলি পৌঁছে গিয়েছিল জেনির শরীরের ভিতরে। ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছিল জেনির অস্থি-মজ্জা এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গে। ডাক্তারি রিপোর্টে জেনির মৃত্যুর কারণ হিসাবে সেপ্টিসেমিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু সেপ্টিসেমিয়া হয়েছিল ‘ক্রাস্টেড স্ক্যাবিজ’-এর জন্য। কিন্তু এই ‘ক্রাস্টেড স্ক্যাবিজ’ হল কোথা থেকে? সেই কারণ সন্ধানে নেমেই বেরিয়ে এসেছে এই ভয়ঙ্কর তথ্য।

আমেরিকার জর্জিয়ার হওয়া এই ঘটনা বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। আর মডেল জেনির মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে সামনে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর সত্যি। জানা গিয়েছে জেনির শরীরে স্ক্য়াবিজের জন্য দায়ী এক ধরনের পরজীবী প্রাণী। এরা মূলত ত্বকের উপরের স্তরে বাসা বাঁধে। এই পরজীবী প্রাণীরা ইংরাজিতে ‘মাইটস’ নামে পরিচিত। মাইক্রোস্কোপিক ভিউ-তে এই পরজীবী প্রাণীগুলিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। খালি চোখে এদের সন্ধান পাওয়া কার্যত অসম্ভব। এর জন্য মাইক্রোস্কোপ লাগে। শরীর জুড়েও এরা বাসা বাঁধতে পারে। অথবা শরীরের কোনও একটা অংশে বাসা বাঁধে।

মূলত মাইটস রয়েছে এমন কোনও ব্যক্তির শরীর থেকে এগুলি অন্যের শরীরে যায়। অথবা জামা-কাপড় ও ফার্নিচারের মাধ্যমে এই পরজীবী প্রাণীগুলি মানুষের ত্বকে বাসা বাঁধে। মাইট শরীরে আছে কি না তা বোঝার সবচেয়ে সহজ রাস্তা হল শরীর জুড়ে চুলকানি। রাত হলে এই চুলকানি আরও বেড়ে যায়। কারণ কম আলোয় মাইটস-এর দৌরাত্ম বাড়ে।

৪দিন কোনও খাওয়ার ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে মাইটস। মানুষের ত্বকে বাসা বেঁধে সেখানে থাকা ময়লা এবং লোমকূপের মধ্যে থেকে রক্ত সংগ্রহ করে। খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধিও করতে পারে এরা। মাইট, যেখানে বাসা বাঁধে সেখানে প্রবল চুলকানি ছাড়াও কালো স্পট তৈরি হয়। বেশিদিন মানুষের শরীরে থাকলে মাইটস স্ক্যাবিজের জন্ম দেয়। এবং সেখান থেকে প্রাণও যেতে পারে। জেনি-র ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে।

জেনি একটা সময় নিউ ইয়র্কে মডেলিং করতেন। নাভাল ইয়ার্ডেও কাজ করেছেন তিনি। চিকাগো-তে টেলিভিশন স্টেশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বহু বছর ধরে ডিমেনটিয়ার ভুগছিলেন জেনি। ২০১০ সালে তাঁকে নার্সিংহোমেও ভর্তি করেছিলেন তাঁর মেয়ে। বর্তমানে যে নার্সিংহোমে জেনি ভর্তি হয়েছিলেন সেটা তাঁদের পরিবারের।

জেনির শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল তাঁর শরীরের কোনও অঙ্গ-প্রতঙ্গ-কে ছুঁতে নার্সিংহোমের কর্মীদের বারণ করা হয়েছিল।

এই মৃত্যুর জন্য প্রাথমিকভাবে গাফিলতিকে দায়ী করেছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, ঠিক সময়ে মাইটস-এর চিকিৎসা হলে জেনিকে এমন যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর মুখ দেখতে হত না বলেই মনে করছেন তাঁরা।