Thursday , October 18 2018
Breaking News

এসপি স্যার বলেছে মামলা হবে না, গুলি করে উল্লাস!

ইয়াবা সম্রাট’ পলাশ ও তার বাহিনীর সদস্যরা একের পর এক অপকর্ম করেই চলেছে। মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ, জমি দখল, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং চাঁদাবাজিসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না। আর তাদের এসব অপরাধের নেপথ্যে রয়েছেন ঢাকার তেজগাঁওয়ের ওয়ার্ড কমিশনার ফরিদুর রহমান ইরান। সর্বশেষ রোববার রাতে পলাশ ও তার বাহিনী কোমরগঞ্জ এলাকায় রাতের আঁধারে গুলিবর্ষণ করে উল্লাস করেছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে, এসপি স্যার বলেছে মামলা হবে না।

এমন কথা শুনে স্থানীয় জনগণ চরম ক্ষুব্ধ। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আকুতি, পলাশের অপকর্ম ও নির্যাতনের কি বিচার হবে না? পলাশের বিরুদ্ধে কেন মামলা নিচ্ছে না পুলিশ? কেনই বা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলো আমলে নিচ্ছে না? ক্ষুব্ধ জনতা তাই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা করেছেন। যে কোনো সময় জনতার রোষে পড়তে পারে সন্ত্রাসী পলাশ ও তার বাহিনী।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তানভীর বাবু বলেন, রোববার রাতে পলাশ ও তার বাহিনী গুলিবর্ষণ করে এলাকায় ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় নবাবগঞ্জ থানায় ফোন করেও সাড়া মেলেনি। ভয়ে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন উপজেলার বক্সনগর, আগলা, গালিমপুর, বাহ্রা ও চুড়াইনসহ ৫ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের বাসিন্দারা। তারা একতাবদ্ধ হতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে গত কয়েকদিন যমুনা ও একাত্তর টিভি এবং যুগান্তরসহ একাধিক পত্রিকায় পলাশের অপকর্মের খবর প্রকাশিত হওয়ায় জনতার মাঝে সাহস সঞ্চার হয়েছে। মানববন্ধন, সভা সমাবেশ ও বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন তারা। শুধু তাই নয়, পলাশ বাহিনীর অপকর্মের কাহিনী অনেকেই শেয়ার করছেন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসেও রাতে পলাশ তার বাহিনী নিয়ে কৈলাইলের ভাঙ্গাভিটা এলাকায় ইছামতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে গিয়ে প্রায় শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এবং একটি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই বাছির উদ্দিন তদন্ত করলেও অজ্ঞাত শক্তির ইশারায় থানায় মামলা হয়নি।

পলাশের খুঁটির জোর কোথায় : একের পর এক অপকর্মের পরও পলাশ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা অর্ধশিক্ষিত পলাশের খুঁটির জোর কোথায়? তারা জানতে চান, কে পলাশকে দিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটিয়ে নবাবগঞ্জকে উত্তপ্ত করতে চাচ্ছে? হঠাৎ রাজনীতিতে এসে ছোট-বড় কাউকে তোয়াক্কা করছে না পলাশ। নবাবগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও তাকে দমাতে পারছে না।

অভিযোগ আছে, পলাশের সব অপকর্মে মদদ দিচ্ছেন ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার ফরিদুর রহমান ইরান। ইরানের ইশারায় চলে দোহার ও নবাবগঞ্জ থানা পুলিশসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কিছু পুলিশ কর্মকর্তা। ফলে পলাশের কোনো অপকর্মের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয় না থানা পুলিশ।

এদিকে নবাবগঞ্জের বর্ধনপাড়ায় মহিউদ্দিনের বসতভিটা ভেঙে ২১ শতাংশ জমি দখলের ঘটনায় গত ৫ দিনেও পলাশ ও তার বাহিনী এবং রেদোয়ানের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: যুগান্তার