Sunday , July 22 2018
Breaking News

যে ভাবে দশ মাসের শিশুর প্রাণ বাঁচালেন এই কেবিন ক্রু

এই মূহুর্তে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে৷ হবে নাই বা কেন? কাজটাই তিনি করে ফেলেছেন এমন! পেশায় তিনি একজন বিমান সেবিকা৷ মায়ের কোল থেকে পরে যাচ্ছিল দশ মাসের বাচ্চা৷ মায়ের হাত থেকে ফসকে যাওয়া শিশুকে মাটিতে আছড়ে পড়তে দেননি ওই এয়ারহোস্টেস৷ লাফ দিয়ে তাকে ধরে ফেলেন৷

বেসরকারি বিমান সংস্থা জেট এয়ারওয়েজের ওই বিমান সেবিকার এমন তৎপরতায় শিশুর প্রাণ রক্ষা পাওয়ার ঘটনা সকলের মন জয় করে নিয়েছে৷ গত মাসে মুম্বই বিমানবন্দরে ঘটে এই ঘটনা৷ কিন্তু খবর ছড়ায় দেরিতে৷ তবে খবর চাউর হতেই সোশাল মিডিয়ায় ওই বিমান সেবিকার প্রশংসা করতে কেউ বাদ যাচ্ছেন না৷ তাঁর জন্যই মায়ের কোল থেকে পড়ে যাওয়ার পরেও ওই শিশুর কোনও চোট লাগেনি৷

জানা গিয়েছে এক মহিলা তাঁর দশ মাসের শিশুকে নিয়ে বিমানে সওয়ার হতে আসেন৷ তিনি যাচ্ছিলেন অহমেদাবাদ৷ চেক ইন করার পরে নিরাপত্তা পরীক্ষা করাতে তিনি কাউন্টারের দিকে এগোচ্ছিলেন৷ তখনই তাঁর হাত থেকে তাঁর বাচ্চা ফসকে যায়৷ শিশুটিকে বাঁচান মিতাংশি বৈদ্য৷ শিশুটির মা একটি বেসরকারি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টির৷ নাম গুলাফা শেখ৷ তিনি জানিয়েছেন, “কপালের জোড়ে একটি মেয়ে আমার বাচ্চাকে বাঁচায়৷ সে নিজের পরোয়া না করেই লাফ দিয়ে বাচ্চাকে ধরে ফেলে৷ ওই এয়ারহোস্টেসের মুখে আঘাতও লাগে৷ বোধহয় সারা জীবন তার নাকে আঘাতের চিহ্ন থেকে যাবে৷”

গুলাফা জেট এয়ারওয়েজকে চিঠি লিখে তাঁদের বিমান সেবিকার প্রশংসা করেন৷ তবে গুলাফা যে বিমানে চড়ে আহমেদাবাদ যাচ্ছিলেন তা জেট এয়ারওয়েজের বিমান ছিলনা৷ কোনও অন্য বেসরকারি সংস্থার বিমানের যাত্রী ছিলেন তিনি৷

জেট এয়ারওয়েজ এই ঘটনার পর তার সত্যতা স্বীকার করে৷ বিমান সংস্থা জানিয়েছে “মিতাংশির কাজে আমরা গর্বিত৷ তিনি ২০১৬ থেকেই কেবিন ক্রু এর কাজ করেন৷” গুলাফা তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, তিনি মিতাংশি বৈদ্যর কাছে তাঁর মোবাইল নম্বর চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তিনি কোম্পানির নিয়ম ভেঙে তাঁর মোবাইল নম্বর দেননি৷ গুলাফা আরও জানান “বিয়ার ১৪ বছর পর আমাদের সন্তান হয়৷” তিনি ধন্যবাদ জানাতে ও উপহার দিতে চান মিতাংশিকে কিন্তু মন কাড়া কথা বলে দেন ওই বিমান সেবিকা৷ তিনি বলেন, প্রার্থনার সময় মনে রাখবেন৷ “দুয়াও মে ইয়াদ রখনা৷”