Saturday , July 21 2018
Breaking News

শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ ঠেকাতে আবারও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে খোলা চিঠি

নতুন বছরেও বারবার আলোচনায় আসছেন শাকিব-অপু দম্পতি। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যাচ্ছে শাকিব-অপুর বিচ্ছেদের খবরাখবর। বিচ্ছেদ ঠেকাতে অনেকে অপুর দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতে চাইছেন। দেশবাসী চায়, ছেলে জয়ের দিকে তাকিয়ে হলেও যেন অপু বিশ্বাসের সাথে সংসার করেন অভিনেতা শাকিব খান।

এদিকে অপু বিশ্বাসের ভেরিফাইড ফেসবুক ফ্যান পেইজে শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ ঠেকাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন এক ভক্ত।

তিনি লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি একজন অতি সাধারণ আপনার সোনার বাংলাদেশের নাগরিক। আজ আমি আপনার কাছে সাহায্যর জন্য আমার হাত দুটি আপনার দিকে বাড়িয়ে দিলাম সাহায্য পাওয়ার আশায়। আমি আশাকরি, আপনি নিশ্চয়ই আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না। কারণ আমার জানামতে, আপনি খুব ভালো মনের একজন মানুষ। আপনি আমাদের সোনার বাংলাদেশের বঙ্গকন্যা। যে বঙ্গকন্যার মন ঠিক তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই খুবই দয়ালু। আমি জানি, আপনি আপনার বাবার আদর্শ গড়ে উঠেছেন। আপনি আপনার বাবার মতোই ন্যায়বিচারক। তাই তো আমি আজ আপনার কাছে আমার একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছি।’

‘আমার অনুরোধটি হলো, বাংলা চলচ্চিত্রের অপু বিশ্বাসকে নিয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের অপু বিশ্বাসের জীবনে কী ঘটনা ঘটে চলছে, তা আপনি একটু হলেও জানেন। আমাদের বড় ভাই শাকিব খান আমাদের অপু আপুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। বেশ সুখেই কাটছিল তাদের দুজনের সুখের সংসার। কিন্তু নবাগত এক নতুন নায়িকাকে নিয়ে আমাদের অপু আপির সুখের সংসারে আগুন জ্বলছে। এতদিন অপু আপু শাকিব ভাইয়ের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে, তাঁদের দুজনের বিয়ের কথা গোপন রেখেছেন। এমনকি শাকিব ভাইকে অপু আপু ভালোবেসে নিজের হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে , ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। শুধু শাকিব ভাইকে ভালোবেসে । কিন্তু অপু আপু যখন লোকের মুখে শাকিব ও বুবলির প্রেমের গুঞ্জন শুনতে পান’।

‘ঠিক তখন তিনি তাঁর নিজের ও তাঁর একমাত্র সন্তানের অধিকার আদায়ের জন্য মিডিয়ার সামনে আসতে বাধ্য হয়। অপু আপুর হঠাৎ করে মিডিয়ার সামনে আসাটা শাকিব ভাই পছন্দ করেননি। এজন্য সে প্রথমে তাদের দুজনের বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু পরে তার ছেলে জয়কে মেনে নেন, কিন্তু অপুকে মেনে নিতে চাননি। যাই হোক, পরে আমাদের অপু আপুকে সব ভক্তদের ও সব তারকাদের এবং সাংবাদিকদের চাপে পরে অপু আপুকে মেনে নেন।’

‘কিন্তু শাকিব তার মন থেকে মেনে নেননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি আপনার কাছে বিচার চাই । আপনি একজন নারী, তাই নারী হয়ে, অন্য নারীর কষ্ট আপনি নিশ্চয় ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। আমাদের অপু আপু তার ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শাকিব ভাইয়ের সাথে সংসার করতে চায়। কিন্তু শাকিব ভাই আমাদের অপু আপুর ফোন নাম্বার ব্ল্যাক লিস্টে ফেলে রেখেছেন। এমনকি সে অপু আপুর সাথে দেখাও করে না। শুনছি সে নাকি বুবলি নায়িকার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এবং আমি আরো বেশ কিছু খবর পেলা্‌ শাকিব একাজ নিজের বুদ্ধিতে করছেন না’।

‘শাকিব অন্যলোকের বুদ্ধিতে অপুকে ও জয়কে ফেলে, দেশ-বিদেশে শুটিংয়ের কাজে নিজেকে খুব ব্যস্ত রাখছেন। এদিকে অপু আপু ও জয় শাকিব ভাইয়ের সাথে দেখা করতে চাইছেন। কিন্তু শাকিব ভাই অনেক তালবাহনা দিয়ে অপু আপু ও জয়কে দূরে সরিয়ে রাখছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন আপনিই বলেন, কোন ভালো স্বামী কী তাঁর বউ ও ছেলের কাছ থেকে এত দূরে সরে থাকেন। শাকিব ভাইকে অনেক লোক বুঝাতে চেষ্টা করছেন।’

‘কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, শাকিব ভাই ও অপু আপুকে নিয়ে গেল ১৫ তারিখে সালিস বসেছিল সেখানে সময়মতো অপু আপু হাজির থাকলেও শাকিব ভাই হাজির হননি। এমনকি তার হয়ে সেখানে তার কোন সরকারি আইনজীবীও হাজির ছিলেন না। শুনলাম সেখানে অপু আপু বলেছেন, যে তাদের দুজনের একটা সন্তান আছে। তাই অপু আপু বলেছেন, তাদের সন্তানের কথা ভেবেই শাকিবের সাথে সংসার করতে চান তিনি। এবং আরো বলেছেন, শাকিবকে ভালোবেসে তাঁর ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছেন। এজন্য সে শাকিবকে কখনও ছাড়তে চান না। অপু আপু আরো বলেছেন, সব সংসারেই কম বেশি ভুল বুঝাবুঝি হয়। সে আরো বলেছেন সে শাকিবের দেখা পান না। এমনকি শাকিবকে ফোনেও পান না। সে ভেবে ছিল, হয়তো সালিসে শাকিবের দেখা পাবে, কিন্তু শাকিব সেখানে আসেনি। সে বলেছে শাকিবের সাথে তার সরাসরি কথা হলে তাদের দুজনের মধ্যে সব ঝামেলা মিটে যাবে।’

‘কিন্তু সেখানে শাকিব ওইদিন হাজির ছিলেন না। যাই হোক না কেন, আমি এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনি খুব জলদি শাকিব ও অপুর মধ্যে যে ভুল বুঝাবুঝি চলছে, সে বিষয়ে তাদের দুজনকে আপনি একসাথে ডেকে তাদের দুজনকে আবার আগের মতো করে এক করে দিবেন।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জানেন তাদের দুজনের ফুলের মতো ফুটফুটে একটা ছেলে সন্তান আছে, যার না আব্রাহাম খান জয়। আপনি অন্তত বাচ্চার মুখের দিকে চেয়ে শাকিব ও অপুর সংসারটা ঠিক করে দেন। আমি বিশ্বাস করি, আপনি শাকিবকে বললে, শাকিব আপনার কথা অমান্য করবেন না। তাই তো আমি আর বিকল্প কোন পথ খুঁজে না পেয়ে আপনার কাছে সাহায্যর জন্য আমার হাত দুটা বাড়িয়ে দিলাম।’

‘আমি আপনার কাছে আশা করি, এ বিষয়ে আপনি অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। এই দাবি শুধু আমার একার নয়, বাংলাদেশের প্রাই ৯০% ভাগ লোকের চাওয়া এইটা। সবাই আমরা শাকিব ও অপুর মিল দেখতে চাই। সমাজ নারীদের তেমন অধিকার দেয় না। কিন্তু আপনি ক্ষমতায় এসে নারীদের যথাযথ অধিকার দিয়েছেন। আর এজন্য আমরা সবাই আপনাকে আমাদের তরফ থেকে অনেক, অনেক শুভেচ্ছাও ধন্যবাদ জানাই। আমি আপার কাছে আশা করি শাকিব-অপুর বিষয়ে আপনি খুব তাড়াতাড়ি একটা ভালো সিদ্ধান্তে আসবেন। জয় বঙ্গবুন্ধুর, জয় বঙ্গকন্যার’।