Saturday , September 22 2018
Breaking News

আবারও কঠিন শৈত্যপ্রবাহ আসছে, জেনে নিন কবে থেকে বাড়বে শীত

কঠিন শৈত্যপ্রবাহ আসছে- কয়েক সপ্তাহের তীব্র শীতের পর বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। আগামী দু’দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও রবিবার (২১ জানুয়ারি) থেকে তাপমাত্রা ফের কমে যাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়া ফের শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র শীতের পর বাতাসের তারতম্যের কারণে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা বাড়ার এই প্রবণতা থাকবে আরও দু’দিন। তবে আগামী ২১ ও ২২ জানুয়ারি তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। এছাড়া চলতি মাসের শেষে আরেও একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখনও রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী দু’দিন কমে যাবে শৈত্যপ্রবাহ।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৮.১ ডিগ্রি।

এছাড়া ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ ডিগ্রি, ময়মনসিংহে ১২.৫, চট্টগ্রামে ১৩.৪, সিলেটে ১৪.৮, রংপুরে ১১, খুলনায় ১১.৫ এবং বরিশালে ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর বাইরে রাজশাহীতে আজও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশেপাশের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ
তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি, তখন কী অবস্থা হতে পারে
গত সপ্তাহের কথা, সারাদেশে যখন তাপমাত্রা রেকর্ডসম কমে যায়, বিশেষ করে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬৬ ডিগ্রিতে নামে-প্রবল এই শীতে সবারই নাজেহাল অবস্থা। এবার চিন্তা করুন তাপমাত্রা যখন মাইনাস এবং তা মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, তখন কী অবস্থা হতে পারে।

এবার আসি রাশিয়ার গল্পে। রাশিয়ার প্রত্যন্ত ইয়াকুটিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাপমাত্রার এই ভয়াবহ অবনমনে চোখের পাতায়ও জমে যাচ্ছে বরফ।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে ৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে ইয়াকুটিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার তাপমাত্রা রেডর্ক করা হয় মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (মাইনাস ৮৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

প্রায় ১০ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে ওই অঞ্চলে। কয়েকদিন ধরে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেই বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। তবে গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ নির্দেশ দিয়েছে, ছেলেমেয়েদের বাড়ির মধ্যে রাখতে।

তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি, তখন কী অবস্থা হতে পারে

মানুষের বসবাস রয়েছে, বিশ্বের এমন শীতলতম স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি রাশিয়ার শাখা অঞ্চলের ওয়াইমায়াকনস্কি জেলার ওয়াইমায়াকন গ্রাম।

মঙ্গলবার এই গ্রামের তাপমাত্রা থার্মোমিটারের পারদকে পরাস্ত করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওয়াইমায়াকন গ্রামের একটি থার্মোমিটারের রিডিং দেখানো হয়, যেখানে দেখা যায়, থার্মোমিটারের সর্বনিম্ন স্তরে পারদ নেমে গেছে।

ওই থার্মোমিটারের সর্বনিম্ন মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পরিমাপের ক্ষমতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ওয়াইমায়াকনে সর্বকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ওই বছর সেখানে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল মাইনাস ৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।