Monday , May 21 2018
Breaking News

১০ জন বলিউড সেলিব্রেটি যারা দারিদ্রতার কারণে মারা গেছেন, ৫ নাম্বারকে দেখলে চমকে উঠবেন…

‘ভাগ্য’ কোন সুন্দরী মহিলা নয়, কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্য আপনাকে ভালো মানুষ করে তোলে, কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে সাফল্য, খ্যাতি এবং আড়ম্বরের সিংহাসনে বসায় আবার এই ভাগ্যই আপনাকে কঠিন বাস্তবে আছড়ে ফেলে আর আপনার স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকা ছাড়া কিছু করার থাকে না।

বলিউড সেলিব্রেটিরা তাদের টিভির পর্দায় অভিনিত শক্তিশালী চরিত্রগুলির জন্য পরিচিত, তবে এর যে আর একটি দিক আছে তা সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণাই নেই। সেখানে বেশ কিছু সত্য ঘটনা আছে যেগুলি থেকে জানা যায় বলিউড সেলিব্রেটিরা কি করে জিরো থেকে হিরো হয়ে ওঠে, আবার অনেক করুণ ঘটনাও আছে যেখানে একজন মানুষ সমস্ত বৈভবের অধিকারি হয়েও তাদের শেষ জীবনটি চরম দারিদ্রের মধ্য দিয়ে কাটে।

এখানে এইরকম দশজন সেলিব্রেটির কথা বলা হল, যাদের জীবনে বৈভব ও দারিদ্র দুই এরই অভিজ্ঞতা আছে।

মিনা কুমারী

বলিউডের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র মিনা কুমারী মাত্র চার বছর বয়সে সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। উনি সিনেমা জগত থেকে সরে গিয়েছিলেন ‘ক্যাটাস্ট্রফি কুইন’ নাম নিয়ে। উনি দারিদ্রের জন্য নিজের চিকিৎসা চালাতেও ব্যর্থ হন এবং ওনার মৃত্যু হয়।

ভগবান দাদা

ভগবান দাদা কোন গতানুগতিক হিরো ছিলেন না, তিনি খুব সাধারণ দেখতে এবং স্থুল প্রকৃতির ছিলেন। যাইহোক তিনি একজন ডিরেক্টর এবং শিল্পি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। খুবই দঃখজনক যে তার কিছু ছবি পর পর ফ্লপ হলে তিনি জুহুর ২৫ ঘরের বাংলো, ৭টি গাড়ি বিক্রি করে দাদোরের এক বস্তিতে চলে যেতে বাধ্য হন। উনি সবার অলক্ষ্যে ২০০২ সালে ৮৯ বছর বয়সে মারা যান।

আঁচল শচদেব

আমরা সবাই আঁচল শচদেব কে মনে রেখেছি তার ‘মা’ এবং ‘ঠাকুমা’ চরিত্রগুলিতে অভিনয় করার জন্য। উনি খুবই মানবিক ছিলেন, এমনকি নিজের বাড়িতে ‘জনসেবা ফাউনডেসন’ চালু করেছিলেন। যাইহোক, ওনার যখন পড়ে গিয়ে পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল তখন উনি বিনা চিকিৎসায় হাঁসপাতালে পড়ে ছিলেন। অবশেষে তিনি মারা যান। ওনার ছেলে জোতিন আমেরিকায় থাকত এবং কখনো মাঝে মধ্য দেখা করতে আসত, আর তার মেয়ে মুম্বাইয়ে থাকলেও মায়ের সাথে কোন যোগাযোগ রাখেনি।

নলিনী জয়ন্ত

নালিনী জয়ন্ত এর জন্ম সিনেমা ও থিয়েটারের সাথে যুক্ত এমন এক পরিবারে হয়েছিল। উনি ওনার চেম্বুর এর বাড়িতে ডিসেম্বর ২০১০ এ একা থাকাকালীন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তার মৃত্যুর তিন দিন পর তার দেহ উদ্ধার করা হয়। তার পরিবারের লোকজনও তার শেষ দিনগুলিতে তার পাশে ছিল না।

ভরত ভূষণ

‘বাইজু বাওরা’ ছবির সাফল্যের পর মিনা কুমারীর সাথে ভরত ভূষণ এর ‘অন স্ক্রিন’ জুটি খুব বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। ভরত ভূষণ নিজে যেমন বিভিন্ন ছবিতে প্রতিকূল ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, ঠিক তেমনই বাস্তব জীবনে নানান প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ভারত ভূষণ নিজের শেষ জীবনে জুয়া খেলে প্রায় দেউলিয়া হয়ে গেসলেন।

এ.কে.হাঙ্গাল

অবতার কৃষ্ণ হাঙাল ২২৫ টির ও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। উনি বিনা চিকিৎসায় ৯৭ বছর বয়সে মারা যান। উনি বলিউডের বড় বড় তারকাদের সাথে কাজ করলেও ওনার শেষ জীবন খুবই অভাবে কাটে।

চন্দ্র মোহন

চন্দ্র মোহনের জন্ম নরসিংহপুরে এবং উনি ৩০ ও ৪০ এর দশকের খুবই জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন। মোহনের ‘মুগল-এ-আজম’ এ প্রধান চরিত্র অভিনয় করার কথা ছিল, কিন্তু ছবির শুটিং চলাকালীন মাত্র ৪৪ বছর বয়সে উনি মারা যান। ওনার জুয়া ও মদের প্রতি আসক্তির জন্য মৃত্যুর সময় উনি অর্থশূন্য হয়ে পরেছিলেন।

রুবি মায়েরস

রুবি মায়েরসের এক বাগদাদী ইহুদী পরিবারে জন্ম হয়। উনি হিন্দী বলতে না পারলেও ‘সুলোচনা’ নামে বলিউডে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। ওনার কেরিয়ারের শিকড়ে ওনার বেতন মুম্বাই গভরনার এর থেকেও বেশি ছিল। উনি ১৯৭৩ সালে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার জেতেন। ১৯৮৩ সালে ওনার ফ্লাট থেকে ওনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভিমি

ভিমি এর মৃত্যুর সময় ওনার বয়স ছিল মাত্র ৩০ এর কোঠায়। উনি লিভারের সমস্যা নিয়ে লীলাবতী হাঁসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। তার মৃতদেহ একজন চা বিক্রতার ঠেলা গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কুক্কু মোরে

কুক্কু মোরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অর্থাভাবে মারা যান। বলা হয় যে, শেষ দিনগুলিতে ওনার পেনকিলার কেনবারও ক্ষমতা ছিল না।

এইসব বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অর্থাভাবে মারা যান। এই সব জাঁকজমকের পিছনে লুকিয়ে থাকে জীবনের অন্ধকার সত্য।