Tuesday , November 13 2018
Breaking News

আমি আর পাঁচটা প্রধানমন্ত্রীর মতো না

‘কোনো চাহিদা থাকলে সেটা ‘আমি অন্তত দেখতে পারব’ এমন মন্তব্য করে শ্রমিকদের কারও উস্কানি বা ফাঁদে পা দিতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি দাওয়া সমাধান করার মতো ক্ষমতা তার আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আর পাঁচটা প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধানের মতো না। আমি কাজ করি আমার দেশের কল্যাণে, সাধারণ মানুষের মঙ্গলের জন্য আন্তরিকতার সাথে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে বুধবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেপজার ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টর সামিট’এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল বেপজার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আরও ব্যাপকহারে বিনিয়োগ করতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে এখন চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত যেসব সমস্যা ছিল সেগুলো দূর করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া, কর অবকাশ সুবিধাও দেয়া হচ্ছে।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার বেশ কিছু শিল্পের শ্রমিকরাও। এ সময় শ্রমিকদেরকে শৃঙ্খলা মেনে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি আশ্বাস দিতে পারি, আমি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না, আমি জাতির পিতার কন্যা, আমি আপনাদের প্রতিনিধি, আপনাদের যদি কোনো সমস্যা থাকে, সেটা আমরা দেখব। এবং এর সমাধান কীভাবে করা যাবে, সেটা আমরা দেখব এবং সেটা দেখার ক্ষমতা আমাদের আছে।

কৃষক, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ‍উৎপাদন করে আমাদের খাদ্য যোগায়, শ্রমিক, যারা যাদের ঘাম এবং রক্ত দিয়ে আমাদের উৎপাদন বাড়ায়, দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখে, তাদের গুরুত্ব আমার কাছে অপরিসীম। আমার রাজনীতি তাদের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অনুরোধ আমার থাকবে, যে কল কারখানা আপনাদের অন্ন জোগায়, আপনাদের জীবন মান উন্নত করে তার যেন কোনো ক্ষতি না হয় বা বাইরের কোনো উস্কানিকে আপনারা যেন কোনো মতে আপনাদের কর্মক্ষেত্রের কোনো ক্ষতি যেন না হয়, সে দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।

নানা সময় শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা হয়ত কাজ করে না, শ্রম দেয় না, কিন্তু সংগঠন করার নামে অনেক সময় নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করে, যার ফলে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে পারে।

কারও উস্কানিতে যেন আপনারা প্রলুব্ধ হবেন না বা এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাদের কল কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এ দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

‘একটি কথাই মনে রাখতে হবে, কলকারখানা আছে বলে আর সেখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলেই কিন্তু আপনারা অর্থ উপার্জন করতে পারছেন, পরিবার-পরিজনকে দেখাশোনা করতে পারছেন এবং নিজেরাও স্বাবলম্বী হতে পারছেন।’

শ্রমিকদের জন্য সরকার কী করছে, সেটাও জানান প্রধানমন্ত্রী। ইপিজেডের বাইরের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য নূন্যতম মজুরি কমিশন গঠন করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের সরকারের আমলে আমরা ইপিজেডের শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি দুইবার বৃদ্ধি পাচ্ছেন, সেখানে শ্রমিকরা বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্য সুবিধা পাচ্ছে, নারী শ্রমিকরা মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।

বেপজা পাবলিক স্কুলে ও কলেজে শ্রমিকদের ছেলে মেয়েরা কম খরচে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্র। বলেন, অধিকাংশ ইপিজেডে ডে কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে।

শ্রমিকদের বাসস্থানের সুবিধার জন্য আমরা ডরমেটরি বা হোস্টেলও নির্মাণ করে দিচ্ছি। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শ্রমিকদের সুবিধার জন্য ডরমেটরি বা হোস্টেল নির্মাণ করতে চান, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ণ তহবিল নামে একটি তহবিল আছে, সেখানে দুই শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিয়ে টাকা নেয়া যেতে পারে।

‘শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার স্বার্থে আমরা ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সংঘ ও শিল্প সংঘ আইন ২০১০ প্রণয়ন করেছি। এই আইনের আওতায় ইপিজেডের শ্রমিকরা গোপন ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ট্রেন ইউনিয়নের ন্যয় শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার সরকার ২২ ভাগে নামিয়ে এনেছে জানিয়ে এটা আরও কমানোর কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১৪-১৫ ভাগের বেশি দারিদ্র্য থাকুক, এটা আমরা চাই না।

স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতে দেশের উন্নতি হবে। আর দেশের উন্নতি যত বেশি হবে, আপনাদের সাধারণ মানুষ, একেবারে গ্রামের তৃণমূল মানুষ যারা আছে, তাদেরও অর্থনৈতিক উন্নতি হবে।’