Friday , December 14 2018
Breaking News

মা-বাবার কথা শুনলে দেখবেন, কোনো দিন হারবেন না: মাশরাফি

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তীদের একজন মাশরাফি বিন মূর্তজা। কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনি আছেন। দেশের মা, মাটি ও মানুষের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে যাচ্ছেন অনেক উচ্চতায়। এবার নতুন মিশনে নামলেন। দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে হাত বাড়িয়ে দিলেন। মাশরাফি লক্ষ কোটি তরুণ যুবকের প্রাণে ঢেলে দিলেন জীবনে সফলতার মূল সূত্র।

তার কন্ঠে বজ্র কথন, শোনালেন বাবা মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মূর্তজা তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কোনো ছেলে-মেয়ে যদি মা-বাবার কথা শোনেন, তিনি কোনো দিন হারবেন না। সবসময় পরিবার নিয়ে থাকবেন। দেখবেন অন্যরকম এক শান্তি।

নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, এ চোখ খুলে দেখুন, বন্ধু-বান্ধবরা যারা খারাপ কাজ করতে যাচ্ছে, তাদেরকে নিষেধ করুন। তাদেরকে সঠিক পথে আনুন। এভাবে পরস্পর মিলে ভালো কাজে নিজেকে যুক্ত রাখুন। আমাদের সমাজে কেউ খারাপ কাজ করলে আমরা মনে করি সে খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা কখনোই কাউন্সেলিং করি না।

মাশরাফি আরো বলেন, মানুষ যা চায়, সবসময় সবকিছু পায় না। তবে ভালো কিছুর জন্য সবসময় চেষ্টা করে যেতে হবে। তাহলে সফলতা আসবে। ভালো অবস্থানে যেতে হলে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। ভালো কিছু পেতে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে। খারাপ জিনিস পেতে গেলে একদিনও সময় লাগে না। প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ভালো জায়গায় সেটেল হয়ে পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইল টাউন ক্লাবে “পরিবর্তনে যুব সমাজ” শীর্ষক এক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে মাশরাফি বিন মূর্তজা তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন ।

মাশরাফির নেতৃত্বে নড়াইল এক্সপ্রেস নামে একটি ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ ঘটে ৪ সেপ্টেম্বর। নড়াইল শহরের কয়েকটি উন্মুক্ত স্থানে জনসাধারণের জন্য ফ্রি সুপেয় পানি খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেকার যুবকদের ঘরে বসে উপার্জনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। শহরের দুটি এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

নড়াইল এক্সপ্রেসের বিভিন্ন লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করা, উন্নত নাগরিক সুবিধা, বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও মানবিক শিক্ষার প্রচলন, বেকারত্ব দূর করার জন্য কর্মস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান, চিত্রা নদীকে ঘিরে আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা করা, আইসিটি শহরে রূপান্তরিত করা এবং পরিবেশ উপযোগী বিনোদনবান্ধব শহর করা।