Tuesday , November 13 2018
Breaking News

সুন্দর একটি ঘটনাঃএক দিন মা ফাতেমা (রা:) হযরত আলী (রা:) কে বলল, স্বামী ঘরে কিছু সুতা কেটেছি, বাজারে বিক্রি করে ক্ষুধার্ত দু’সন্তান হাসান ও হোসেনের জন্য কিছু

এক দিন মা ফাতেমা (রা:) হযরত আলী (রা:) কে বলল, স্বামী ঘরে কিছু সুতা কেটেছি, বাজারে বিক্রি করে ক্ষুধার্ত দু’সন্তান হাসান ও হোসেনের জন্য কিছু আটা নিয়ে এসো, হযরত আলী (র:) সুতা গুলো নিয়ে বাজারে ৬ দিরহামে বিক্রি করলেন।

এমন সময় এক অসহায় ছাহাবা হযরত আলী (র:) কে বলল আলী, কিছু দিরহাম কর্য হবে! আমার ঘরে বাচ্চারা না খেয়ে আছে। একথা শুনে হযরত আলী (র:) নিজের ঘরের কথা চিন্তা না করে সুতা বেচা ৬ দিরহাম ঐ অসহায় ছাহাবাকে দিয়ে দিলেন।

কিছুক্ষন পর দেখল বাজারে এক ব্যক্তি একটি উট নিয়ে হযরত আলীর নিকট এসে বলল, আলী উট নিবে! হযরত আলী (র) বলল নিব, কিন্তুু দিরহাম (টাকা) নাই।লোকটি বলল নাও, টাকা পরে দিলে চলবে।

এ বলে লোকটি চলে গেল, কিছক্ষন পর আর একটি লোক এসে হযরত আলীকে বলল, আলী তোমার উটটি বিক্রি করবে, নগদ ৩০০ দিরহাম দিব। হযরত আলী (র:) বললেন নাও, নগদ ৩০০ দিরহাম দাও। হযরত আলী (র:) ৩০০ দিরহাম দিয়ে উটটি বিক্রি করে উটের আসল মালিককে খুজতে লাগল।

কিন্তুু পুরু বাজারে উটের আসল মালিককে খুজে না পেয়ে ঘরে চলে আসল। ঘরে এসে দেখল, নবীজি (স:) মা ফাতেমার সাথে বসে আছেন। নবীজি (স:) মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, আলী!

উটের ঘটনা আমি বলব, নাকি তুমি বলবে! হযরত আলী (র:) হয়রান হয়ে বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (স:) আপনি বলুন। নবীজি (স:) বললেন, আলী প্রথমে যে তোমাকে উট বাকীতে দিয়ে ছিল, সে হচ্ছে হযরত জিব্রাঈল (আ:) আর পরে ৩০০ দিরহাম দিয়ে যে উটটি কিনে ছিল, সে হযরত ইস্রাফিল (আ:)।

উট ছিল জান্নাতের মা ফাতেমার, যা দিয়ে জান্নাতে মা ফাতেমা (র:) সওয়ার হবেন।

তুমি যে অসহায় ছাহাবাকে সুতা বেচা ৬ দিরহাম কর্য দিয়েছিলে, তাহা আল্লাহর নিকট খুব পছন্দ হয়েছে, আর তাহার বদলা আল্লাহ দুনিয়াতেই তোমাকে কিছু দিয়ে দিয়েছেন। আমিন।

হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর ইন্তেকালে বেলাল (রাঃ) প্রায়
পাগলের মতো হয়ে গেলেন ….

হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর ইন্তেকালে বেলাল (রাঃ) প্রায় পাগলের মতো হয়ে গেলেন । তিনি ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাচ্ছেন । সাহাবীরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন :- “যে দেশে মহানবী (সঃ) নেই, আমি সেখানে থাকবো না”। এরপর তিনি মদীনা ছেড়ে দামস্কে চলে যান । কিছুদিন পরে বেলাল (রাঃ) সপ্নে দেখলেন যে মহানবী (সঃ) তাকে বলছেন, “হে বেলাল (রাঃ) তুমি আমাকে দেখতে আসো না কেন ”?

এ সপ্ন দেখে তিনি মহানবী (সঃ) এর রওজা মুবারক দেখতে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হন । বেলাল (রাঃ) এর আগমনের খবরে মদীনাবাসী আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় । বেলাল (রাঃ) হলেন মহানবী (সঃ) এর নিযুক্ত মুয়াজ্জিন । মহানবী (সঃ) এর ইন্তেকালের পর বেলাল (রাঃ) আর আযান দেননি ।

তার কন্ঠে আযান শুনতে সাহাবীরা ব্যাকুল হয়ে আছেন । তারা তাকে আযান দিতে বললে তিনি বলেন যে, তিনি পারবেন না ।

অনেক জোর করে তাকে বললে তিনি উত্তরে বলেন, “আমাকে অযান দিতে বলো না । কারণ এটা আমি পারবো না । আমি যখন আযান দিই তখন ‘আল্লাহু আকবর’ বলার সময় আমি ঠিক থাকি ।

‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার সময়ও ঠিক থাকি। ‘আশহাদু অন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলার সময় মসজিদের মিম্বারের দিকে তাকিয়ে দেখি যে মহানবী (সঃ) বসে আছেন । কিন্তু যখন মিম্বারে তাকিয়ে তাকে দেখবো না, তখন সহ্য করতে পারবো না।”

কিন্তু তবুও সাহাবীরা জোর করলো । অবশেষে হাসান ও হোসাইন (রাঃ) এসে তাকে জোর করলে তিনি রাজী হন । তার আযান শুনে সকল সাহাবীর চোখে পানি এসে যায় । কিন্তু আযানের মাঝেই বেলাল (রাঃ) বেহুশ হয়ে পরে যান ।

তাকে সকলেই ধরে নিয়ে যান । পরে জ্ঞান ফিরার পর তিনি সকলকে বলেন, “আমি যখন আযান দিচ্ছিলাম তখন ‘আল্লাহু আকবর’ বলার সময় আমি ঠিক ছিলাম । ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার সময়ও ঠিক ছিলাম । কিন্তু ‘আশহাদুঅন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলার সময় মসজিদের মিম্বারের দিকে তাকিয়ে দেখি যে মহানবী (সঃ) আজ সেখান বসে নেই । এ দৃশ্য আমি সহ্য করতে পারলাম না। তাই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলাম।”

বিপদে পড়লে মহানবী (সা) এই ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।

দোয়া ৩টি হলো-

১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)

অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’

অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)

৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন :
আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।

অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)