Wednesday , August 22 2018
Breaking News

পাকিস্থানী সুন্দরীর এই ড্যান্স দেখে জ্ঞান হারালে কতৃপক্ষ দায়ী নয় – বাচ্চারা দুরে থাকো

পাকিস্থানী সুন্দরীর এই ড্যান্স দেখে জ্ঞান হারালে কতৃপক্ষ দায়ী নয় – বাচ্চারা দুরে থাকোঃ পাকিস্থানী মেয়েরা অনেক সুন্দর হয়ে থাকে সেটা আমরা সবাই জানি। তবে পাকিস্থানে কিছু সুন্দরী ড্যান্সার আছে। যাদের নাচ দেখে যে কেউ পাগল হয়ে যেতে পারে।

কারন এসব নাচের সাথে সাথে তারা যেসব অঙ্গ ভঙ্গি করে তা যেকোন পুরুষের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। তেমনই একটি ড্যান্স আপনাদের জন্য দিলাম। এই ড্যান্স দেখার পর যদি আপনি বেহুশ হয়ে যান তার জন্য কিন্তু আমরা দায়ী নয়। আর একটি কথা ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর দ্বায়িত্ব সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের।

জেনে নিন সাধারন মেয়ে নূপুর থেকে নায়িকা শাবনূর হয়ে উঠার গল্প!

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর। যদিও ছবি দেখতে পছন্দ করতেন কিন্তু তা ছিল অন্য ১০টা মেয়ের মতো। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রয়াত এহতেশামের সঙ্গে পরিচয় ছিল শাবনূরের বাবার। সেই সুবাদে শাবনূরদের বাসায় যাতায়াত ছিল এই চিত্রনির্মাতার।

শাবনূরের প্রকৃত নাম নূপুর। ১৯৯৩ সালে নূপুরকে দেখে পছন্দ করে ফেলেন এহতেশাম। তিনি তার নির্মিতব্য ‘চাঁদনী রাতে’ ছবিতে নায়িকা করতে চান নূপুরকে। রাজি করান তার বাবাকে। বাবার কথায় সায় দেন নূপুর।

নূপুর দাদু বলে ডাকতেন এহতেশামকে। আর দাদুর হাত ধরে চলে আসেন রুপালি জগতে। দাদু এহতেশাম তার ফিল্মি নাম দেন শাবনূর। এই নামের অর্থ হলো রাতের আলো। ব্যস, উবে যায় নূপুরের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন। শাবনূর হয়ে তিনি আলো ছড়াতে থাকেন রুপালি পর্দায়। দর্শকও তাকে সাদরে গ্রহণ করে নেন।

চলচ্চিত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাবেন এমনটা কখনই ভাবেননি শাবনূর। স্বপ্ন ছিল আকাশে উড়ার। সেই স্বপ্ন বুঝি স্বপ্নই রয়ে গেলে। আর পাইলট হয়ে উঠা হল না চিত্রনায়িকা শাবনূরের। কথা আছে ‘ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন’।

এই নায়িকা তার জন্মদিনে এভাবেই জানালেন তার পাইলট হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ ও একজন নায়িকা হয়ে ওঠার গল্প। তার কথায় কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারবে না আগামীতে তিনি কী হবেন বা কী করবেন। সবই হয় বিধাতার ইচ্ছায়।

শাবনূরের প্রাথমিক অভিনয় জীবন
শাবনূরের প্রথম চলচ্চিত্র চাঁদনী রাতে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি পরিচালনা করেন এহতেশাম এবং তার বিপরীতে নায়ক ছিল সাব্বির। এই ছবিটি ব্যর্থ হয়। পরে চিত্র নায়ক সালমান শাহের সাথে জুটি বেধে ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন যার প্রায় সবগুলোই ছিল ব্যবসায়িক মানদন্ডে সফল। সালমান শাহ-শাবনূর জুটির প্রথম ছায়াছবি জহিরুল হক পরিচালিত তুমি আমার ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়।

একই বছর শাহ আলম কিরণ তাদের নিয়ে ফারুক-কবরী জুটির সুজন সখী চলচ্চিত্রের রঙিন পুনঃনির্মাণ সুজন সখি নির্মাণ করেন। ১৯৯৫ সালে স্বপ্নের ঠিকানা, ১৯৯৬ সালে স্বপ্নের পৃথিবী, তোমাকে চাই, ১৯৯৭ সালে শিবলি সাদিক পরিচালিত আনন্দ অশ্রু এ জুটির উল্লেখযোগ্য ছবি।

পরে তিনি নায়ক রিয়াজ এর বিপরীতে অভিনয় করে দারুন সফলতা অর্জন করেন। রিয়াজের বিপরীতে ১৯৯৭ সালে মন মানেনা ও তুমি শুধু তুমি এবং ১৯৯৯ সালে অভিনীত ভালবাসি তোমাকে ও বিয়ের ফুল ছায়াছবিগুলো ব্যবসা সফল হয়। পাশাপাশি তিনি অভিনেতা ফেরদৌসের সাথেও সফল হন।

এছাড়াও তিনি মান্না, শাকিব খানের সাথে অভিনয় করে সফল হয়েছেন। এসময়ে তিনি ভালবাসি তোমাকে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্রের জন্য পর্যন্ত টানা দুইবার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন।

শাবনূরের জনপ্রিয়তা ও সাফল্য
২০০০ সালে শাবনূর রিয়াজের বিপরীতে মতিন রহমান পরিচালিত নারীর মন ও এ মন চায় যে..!, এফ আই মানিক পরিচালিত এ বাঁধন যাবেনা ছিঁড়ে, জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি, সাঈদুর রহমান সাঈদ পরিচালিত এরই নাম দোস্তি, শাকিব খানের বিপরীতে এফ আই মানিক পরিচালিত ফুল নেবে না অশ্রু নেবে এবং ইস্পাহানি আরিফ জাহান পরিচালিত গোলাম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

২০০১ সালে তিনি রিয়াজের বিপরীতে দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত হাস্যরসাত্মক-রোম্যান্সধর্মী শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, গাজী মাহবুব পরিচালিত রোম্যান্সধর্মী প্রেমের তাজমহল, ও এফ আই মানিক পরিচালিত রোম্যান্সধর্মী স্বপ্নের বাসর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর আমজাদ হোসেন পরিচালিত সুন্দরী বধূ, এফ আই মানিক পরিচালিত হৃদয়ের বন্ধন ও স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত মিলন হবে কত দিনে ও ভালবাসা কারে কয়,

শাহাদৎ হোসেন লিটন পরিচালিত ও প্রিয়া তুমি কোথায় এবং আজাদী হাসনাত ফিরোজ পরিচালিত সবার উপরে প্রেম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০০ থেকে ২০০২ সালের চলচ্চিত্রের জন্য তিনি টানা তিনবার যথাক্রমে ২০০০ সালের সকল চলচ্চিত্র, ২০০১ সালের শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, এবং ২০০২ সালের স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ চলচ্চিত্রের জন্য তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৩ সালে অভিনয় করেন মতিন রহমান পরিচালিত মাটির ফুল, এফ আই মানিক পরিচালিত দুই বধূ এক স্বামী, আমজাদ হোসেন পরিচালিত প্রাণের মানুষ, আজাদী হাসনাত ফিরোজ পরিচালিত বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ, জিল্লুর রহমান পরিচালিত স্বপ্নের ভালবাসা, মহম্মদ হান্‌নান পরিচালিত নয়ন ভরা জল চলচ্চিত্রে।

এ বছর বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ ছবিতে বর্ষা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন এবং দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এর মনোনয়ন লাভ করেন।

২০০৪ সালে শাবনূর কাজী হায়াৎ পরিচালিত অপরাধ-নাট্যধর্মী অন্য মানুষ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত হাস্যরসাত্মক-নাট্যধর্মী ব্যাচেলর, আজাদী হাসনাত ফিরোজ পরিচালিত ফুলের মত বউ, মিজানুর রহমান খান দীপু পরিচালিত যত প্রেম তত জ্বালা, শিল্পী চক্রবর্তী পরিচালিত তোমার জন্য পাগল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

ফুলের মত বউ ছবিতে রুবী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ষষ্ঠবারের মত দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৫ সালে তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আমজাদ হোসেন পরিচালিত নাট্যধর্মী কাল সকালে,

সালাউদ্দিন লাভলু পরিচালিত হাস্যরসাত্মক-নাট্যধর্মী মোল্লা বাড়ীর বউ, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত বিয়োগান্তক-নাট্যধর্মী দুই নয়নের আলো এবং রোম্যান্টিক আমার স্বপ্ন তুমি।

দুই নয়নের আলো ছায়াছবিতে সেঁজুতি চরিত্রের অভিনয় করে অর্জন করেন প্রথমবারের মত শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া মোল্লা বাড়ীর বউ চলচ্চিত্রে পারুল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য লাভ করেন দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার।

২০০৬ সালে শাবনূর খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস জনম জনম অবলম্বনে নির্মিত নিরন্তর ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। আবু সাইয়ীদ পরিচালিত এই ছবিতে তিথি চরিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে।

২০০৭ সালের ঈদে মুক্তি পায় মালেক বিশ্বাস পরিচালিত মেয়ে সাক্ষী, মহম্মদ হান্‌নান পরিচালিত ভালবাসা ভালবাসা, এবং পি এ কাজল পরিচালিত আমার প্রাণের স্বামী। ২০০৮ সালে পি এ কাজলের রোম্যান্টিকধর্মী ১ টাকার বউ ছবিতে অভিনয় করেন। এতে তার সহশিল্পী ছিল শাকিব খান ও রুমানা খান।

২০০৯ সালে রিয়াজের বিপরীতে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত তুমি আমার স্বামী, এটিএম শামসুজ্জামান পরিচালিত এবাদত ও আব্দুল মান্নান পরিচালিত মন বসে না পড়ার টেবিলে এবং শাকিব খানের বিপরীতে পি এ কাজল পরিচালিত স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা ও শাহ মোঃ সংগ্রাম পরিচালিত বলবো কথা বাসর ঘরে ছবিতে অভিনয় করেন।

২০০৭ থেকে ২০০৯ এই তিন বছর যথাক্রমে আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), ১ টাকার বউ (২০০৮) ও বলবো কথা বাসর ঘরে (২০০৯) ছায়াছবির জন্য টানা তিনবার দর্শক জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার জিতে নেন।