Saturday , September 22 2018
Breaking News

পুরুষদের শার্টের বোতাম ডান দিকে আর নারীদের বাঁ দিকে থাকে কেন?

ছেলেদের শার্টের বোতাম লাগানোর ব্যবস্থা থাকে ডানদিকে। আর মেয়েদের শার্টের বোতাম লাগানোর ব্যবস্থা থাকে ঠিক তার উল্টো দিকে অর্থাৎ বাম দিকে। কিন্তু কেন এমন ‘বৈষম্য’? এ নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচলিত আছে। তেমননি আছে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি।

চলুন জেনে নিই এমন কিছু যুক্তি যা নিয়ে হয়ত কখনোই ভাবা হয়নি-

১. শার্ট পরার সময় কখনো কি ভেবেছেন আপনার আর আপনার স্বামীর শার্টের বোতাম উল্টো দিকে থাকে কেন? ছেলেদের ডান দিকে এবং মেয়েদের বাঁ দিকে। কখনো বোধহয় লক্ষ্যই করেননি। এতোটা কর্ম ব্যস্ত জীবনে এই ছোট বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময়ই বা কই। কিন্তু এমনটি কেন? এটা নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে।

২. ইতিহাসবিদদের মতে, বোতামের চল শুরু হয় সিন্ধু সভ্যতায়। তখন ঝিনুকের খোল দিয়ে বোতাম বানানো হতো। জানা যায়, জার্মানিতে ১৩ শতকে ছিদ্রযুক্ত বোতামের ব্যবহার শুরু হয়।

৩. ওই সময়টাতে সাধারণত ধনীদেরই শার্টে বোতাম থাকত। সেই সময় পুরুষরা নিজেরাই নিজেদের শার্ট পরতেন। কিন্তু ধনী নারীদের শার্ট পরাবার জন্য আলাদা করে দাসী নিযুক্ত করা হতো। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, দাসীদের জামা পরানোর সুবিধার্থেই নারীদের শার্টের বোতাম বাঁ দিকে লাগানো শুরু হয়। আর যেহেতু পুরুষরা নিজেরাই জামা পরতেন তাই শার্টের বোতাম ডান দিকে লাগানো থাকত।

৪. এমনটিও বলা হয়ে থাকে, বেশির ভাগ মানুষই ডানহাতি। অর্থাৎ ডান হাতেই বেশি এবং কঠিন কাজ করতে অভ্যস্ত। পুরুষরা যেহেতু ডান হাতে তলোয়ার রাখতেন, তাই বাঁ হাতে তাদের পোশাক খুলতে সুবিধা হতো। আর শিশুদের দুধ খাওয়ানোর সময় ডান হাত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মুক্ত রাখেন নারীরা। তাই বাঁ দিকে বোতাম থাকলে নারীদের সুবিধা হয়।

৫. ডান হাতের থেকে বাঁ হাত হল অধস্তন- এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে বহু কাল ধরেই। আর সে কারণেই নাকি নারীদের শার্টের বোতাম বাঁ দিকে রাখা হয়। অর্থাৎ নারীরা, পুরুষদের অধীন বা নারীদের স্থান সর্বদাই পুরুষদের নীচে, তা বোঝানোর জন্যই এই ব্যবস্থা।

৬. এ বিষয়ে আবার কারো কারো মত হচ্ছে, নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নির্দেশেই এমন ব্যবস্থার শুরু। কেন? নেপোলিয়ন তার একটি হাত সব সময় শার্টের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখতেন। আর নারীরা তাকে নকল করে ব্যঙ্গ করতেন। সে সব বন্ধ করার জন্য নেপোলিয়ন নির্দেশ দেন নারীদের শার্টের বোতাম উল্টো দিকে অর্থাৎ বাঁ দিকে লাগানোর জন্য।

৭. আরও একটি তত্ত্ব হল, মেয়েরা যে পুরুষদের থেকে কোনো অংশে কম নন, তা বোঝানোর জন্যই পুরুষের মতো জামা পরেছেন। তার পরেও বৈচিত্র্যর কথা ভেবে পরিকল্পিতভাবেই মেয়েরা জামার বাঁ দিকে বোতাম বসিয়েছেন।

৮. দর্জিকে একসঙ্গে নারী-পুরুষের জামা বানাতে হত। পুরুষ ও নারীদের জামা যাতে মিশে না যায়, চট করে আলাদা করে নেওয়ার সুবিধার জন্যই এই ব্যবস্থা।