Saturday , September 22 2018
Breaking News

ডটার অব বাংলাদেশ: মৃত্যুর আগে জীবনের প্রদীপ জ্বালানোর গল্প

কার দোষ বোঝা যাচ্ছে না। হতে পারে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষের ‘ফোর্থ হ্যান্ড’ বিমান ব্যবহারের বলি হয়েছে এতগুলো প্রাণ। কিংবা দায়ী করা যেতে পারে, ত্রিভূবন বিমান বন্দর কতৃপক্ষকেও। তবে, একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে বিমানে কর্তব্যরতদের মধ্যে কেউ নিজেদের দায়িত্বের প্রতি কোনো রকম অবহেলা করেননি।

এখানে আলাদা করে বলতে হয় এই পৃথুলা রশিদের কথা। সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের তরুণ বৈমানিক, দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনের প্রদীপ নিভে গেছে। যদিও, যাওয়ার আগে নিজের জীবনের সাথে বাজি রেখে হলেও তিনি প্রাণ বাঁচিয়েছেন ১০ নেপালির।তাঁরা সবাই এখন বেঁচে আছেন, নেই কেবল পৃথুলা। ওই ১০টা মানুষ আজীবন মনে রাখবে এই পৃথুলাকে, প্রতিটা দিন তাঁর সেই আত্মত্যাগকে একটি বারের জন্য হলেও স্মরণ করবে। যাত্রীদেরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দিতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে করতেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় প্রিথুলার।চলে যাওয়ার সময় দেশকে এমন ভাবে গর্বিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে সবাই পারেন না, পেরেছেন পৃথুলা। বলিউডের ‘নীরজা’ সিনেমাটা নিশ্চয়ই দেখেছেন? ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় সোনম কাপুর ২২ বছর বয়সী নীরজা ভানটের চরিত্রে কাজ করেন। সত্যিকারের একটা ঘটনা থেকে নির্মিত সিনেমা। বাস্তবের নীরজা ভানট সাহসিকতার জন্য এই নীরজা সবচেয়ে কম বয়সে ভারতের ‘অশোক চক্র’ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

পৃথুলাকে আমাদের নীরজা বলা যেতে পারে। নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল সাইটে ‘ডটার অব বাংলাদেশ’ আখ্যা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। আমরা কি করছি? স্রেফ, অহেতুক দোষারপ করা ছাড়া। কেউ কেউ তো তাঁর নারী হওয়ার পরও বিমান চালানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই মাসকিকতাটা কবে পাল্টাবে আমাদের?চাইলেই তো তিনি আর ১০ জন মানুষের মত নয়টা-পাঁচটার চাকরী বেঁছে নিতে পারতেন। সেই সুযোগ তাঁর ছিল। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক করা তিনি। চাইলে যেকোনো কিছুই করতে পারতেন তিনি। তিনি হতে চেয়েছিলেন অন্যরকম। সেটা করতে গিয়ে নিজের প্রাণও তিনি দিয়েছেন। যখন পৃথুলা আমাদের অনুপ্রেরণা হওয়া উচিৎ, আমরা তাঁকে স্রেফ একজন নারী বলে তাচ্ছিল্য করছি, তাঁর ত্যাগকে ছোট করে দেখছি। আমরা এমন কেন?