Wednesday , August 22 2018
Breaking News

‘আমি এখনো বুঝিনা ও আমাকে কী দেখে সিলেক্ট করলো’

কিংবদন্তি অভিনেতা আলী যাকের ও নন্দিত অভিনেত্রী সারা যাকের তনয় ইরেশ যাকের। তিনি নিজেও নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় ও নির্মাণে জায়গা করে নিয়েছেন ইতোমধ্যে। সম্প্রতি ইরেশ যাকের ব্যাচেলর উপাধি ভেঙ্গেছেন অভিনেত্রী মিথিলার বোন মিম রশীদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে।সে বিষয়টি ধরেই ইরেশের সঙ্গে পরিবর্তন. কম সাম্প্রতিক আলাপ।

সদ্য দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন। আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

ধন্যবাদ আপনাকে।

কেমন কাটছে আপনার নতুন জীবন? দর্শক-শ্রোতাদের শেয়ার করুন।
নতুন জীবন তো আসলে… নতুন জীবন চাচ্ছিলাম বলেই তো এই নতুন জীবন যাওয়া। নতুন জীবন খুব এনজয় করছি।

আপনি রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, কোনটায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
চলচ্চিত্রে একটা বিশেষত্ব আছে। টেলিভিশনে যেমন স্ক্রিপ্ট পাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুই তাড়াহুড়ো করে করতে হয়। ঐ জায়গা থেকে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সময় নিয়ে চরিত্রের ভেতরে ঢুকে করা যায়। ঐ জন্য চলচ্চিত্র করার বিষয়ে একটু বেশি আগ্রহী থাকি।

তার মানে চলচ্চিত্রের প্রতি দুর্বলতা বেশি?
হ্যাঁ, টেলিভিশনে একটা নাটক শুট করলে দুদিন আগে স্ক্রিপ্ট হাতে পাই। আর চলচ্চিত্রের চরিত্র নিয়ে কয়েক মাস ভাবার অবকাশ থাকে। ২০/২৫ দিন শুটিং-এ সময় নেয়। সুতরাং, চরিত্রটার সাথে বেশিদিন থাকা যায়। এই কাজটা টেলিভিশনে আমরা করার সুযোগ পাই না। ঐ জায়গা থেকে চলচ্চিত্রকে একটু আলাদা হিসেবে দেখতে পাই। সন্তুষ্টিটা পাওয়া যায়।

ভালো একজন নাট্যকার হতে হলে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্ম, দর্শন, রাজনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনে কেউ এত গভীরে যেতে চান না, আপনার কী মনে হয়?
লিখতে হলে অবশ্যই জানতে হবে এবং পড়তে হবে। এর বিকল্প নাই। যে কোন বিষয়, যে কোন পরিস্থিতি নিয়ে লেখা হয় সেখানকার পারিপার্শ্বিক সংস্কৃতি ও সামাজিক বিষয়গুলো জানাটা জরুরি। এমন না যে একটা নাটকের মধ্যে সবকিছু থাকতে হবে তবে জ্ঞান থাকাটা জরুরি। এটা থাকলে লেখার মধ্যে এমনিতে বিষয়গুলো চলে আসে।

সে ক্ষেত্রে আপনি ইদানিং কী পড়ছেন ও কী লিখছেন?
এই মুহূর্তে কিছু লিখছি না। তবে প্রথম আলোর জন্য লিখি আর বইয়ের মধ্যে এই মুহূর্তে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেই সময়’টা আবার পড়ছি। পাশাপাশি ইংরেজি ডেভিড দাভিদার এর ‘হাউজ অব ব্লু ম্যাঙ্গোজ’ যা সাউথ ইন্ডিয়ান একটা গ্রামের উপর ভিত্তি করে লেখা।

অভিনয়ে প্রথম কবে পা রেখেছেন?
তখন ১১ বছর বয়স। নাগরিক নাট্যদলে ‘গ্যালিলিও’তে প্রথম অভিনয়। গ্যেটে ইন্সটিটিউটে মঞ্চস্থ হয়।

কিংবদন্তি অভিনেতা আলী যাকের ও সারা যাকের তনয় আপনি। সৃজনশীল লাইনে বাবা- মায়ের কিছু অনুসরণ করেন কি? কোনদিকটা?
শিল্পের প্রতি উনাদের শ্রদ্ধা আমার কাছে বিশাল ব্যাপার মনে হয়। শিল্পের প্রতি শ্রদ্ধা, খ্যাতির প্রতি মোহটা কম— এই জিনিস যতটা অনুসরণ করা যায় ততটা ভালো। ভালো কাজ করলে খ্যাতি আসবেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে যাওয়াতে দ্রুত খ্যাতি পাওয়ার একটা প্রলোভন তৈরি হয়েছে। যেমন একটা জিনিস দেখলাম বা একটা ছবি দিয়ে দিলাম তাতে ১০ হাজার লাইক পড়ল, ২০ হাজার ফলোয়ার হয়ে গেল এটা।

ভালো কোন শৈল্পিক কাজে মনোসংযোগ প্রয়োজন। সেই মনোসংযোগটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেলে ব্যাঘাত ঘটবেই। এই সব পারিপার্শ্বিকতার কারণে মনোসংযোগ তৈরি করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে আমাদের বাবা-মার কাছ থেকে অনেক শেখার আছে। একজন সারা যাকের বা একজন শিমুল ইউসুফ এখনো আড়াই ঘণ্টা ধরে স্টেজ পারফর্মেন্স করেন। ওটা করতে গেলে যে-ই শ্রম দেন এখন আর সেটা দেখা যায় না।

এটা কেন হচ্ছে? আগে যে একটা ডেডিকেশন ছিল তা নেই কেন?
আগে অনেক পড়াশুনা করে, জ্ঞান আহরণ করে একটা কাজ করতে হতো। বই লিখতে হতো সেই বই ছাপালে পড়বে দুই হাজার মানুষ, তার চেয়ে এখন ফেসবুকে একটা ফালতু লেখা লিখলে পড়ছে ২০ হাজার মানুষ, সেখানে এই জেনারেশনের প্রলোভন তো থাকবেই।

সারা ঢাকা শহরে ভালো বইয়ের দোকান তিন-চারটা। বিদেশেও সোশ্যাল মিডিয়া আছে, সেখানে সেলিব্রিটিও আছে। তাই বলে তো তাদের ভালো লেখক কমে যায়নি। আমরা আসলে দ্রুত কীভাবে যেন নিজেদের সামাল দিয়ে উঠতে পারছি না। এটা হচ্ছে দ্রুত খ্যাতি পাওয়ার চর্চা। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজম্মের জন্য এটা বিপদজনক।

প্রথম কোন নাটক বা অভিনয়ের মাধ্যমে আপনি আলোচনায় আসেন বা দর্শক আপনাকে চেনে?
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘বাতাসের খাঁচা’ আমার প্রথম নাটক। ২০০৬ সালে চ্যানেল আই-এ প্রচারিত হয়। সেখানে আমার সহশিল্পী বাবা ও মুনমুন ছিল।

আবার আপনার নতুন জীবন প্রসঙ্গে আসি- আপনি একজন আলোচিত ও ডিমান্ডিং ব্যাচেলর ছিলেন। বিয়ের পিঁড়িতে বসে ব্যাচেলর উপাধি খুঁইয়ে কেমন লাগছে?
যখন ওই সিদ্ধান্ত একবার আসে যে, আমি বিয়ে করতে চাই তখন আর আমি মোস্ট ডিমান্ডিং ব্যাচেলর না লেস ডিমান্ডিং ব্যাচেলর এটা বিবেচনায় থাকে না। আমার আগের থেকেই মনে হতো— যে মুহূর্তে আমি বিয়ে করতে চাইবো সেই মুহূর্তেই বিয়ে করবো। এবং আমি বিয়েটো যখন করছি তখন একদম ১১০ পার্সেন্ট শিওর ছিলাম যে বিয়েটা হচ্ছে। তখন আর পেছনের দিকে তাকানোর কোন অবকাশ ছিল না এবং কোন ইচ্ছাও ছিল না।

‘কোন বন্ধনই সুখের নয়’ কথাটার সাথে কি আপনি একমত?
না, আমি একদমই একমত না। বন্ধন অবশ্যই সুখের তবে ব্যতিক্রমও আছে। একবারে লাইফ লং ব্যাচেলরের জীবনেও অনেক ধরনের কষ্ট থাকে আবার বিবাহিত পুরুষ-মহিলার জীবনেও অনেক রকম কষ্ট থাকতে পারে।

জীবনে অনেক ধরনের প্রতিকূলতা আসবে, আনন্দ বেদনা আসবে। সবই স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। দুটো মানুষ একসাথে থাকলে কনফ্লিক্ট হবে, মনোমালিন্য হবে— ওই সব মানিয়েই চলতে হবে। পৃথিবীর কোন সম্পর্কই একশ ভাগ মধুর না। বাবা-মার সাথেও সন্তানের মনমালিন্য হয়। তাই বলে সেই বন্ধনে কি আনন্দ নাই? আমার বিবাহিত জীবন খুব অল্পদিনের, অভিজ্ঞতাও কম। তবে এটা এক্সপেক্ট করলে ভুল হবে যে, সারাক্ষণ আমার জীবন সুখে কাটবে। সব কিছুই মোকাবেলা করতে হবে।

মিমের সাথে আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, বন্ধুত্বটা কি বিয়েতে গড়িয়েছে নাকি মাঝখানে প্রেম…
ও তো আমার বন্ধু ছিল, বন্ধু মানে তো বন্ধুই। মিথিলার সাথে আমি প্রায় ১০ বছর অভিনয় করেছি। ওখান থেকে মিমের সাথে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়। ওর আগে আরেকটা বিয়ে হয়। আসলে আমরা ওভাবে কখনো ভাবিনি। আমি এক বছর, ছয় মাস আগেও জানতাম না কখন কার সাথে বিয়ে হবে। এর আগে অনেকেই বলেছে— বিয়ে করো, বিয়ে করা উচিৎ কিন্তু আমি মনে করি যখন যা হওয়ার তা-ই হয়।

মিডিয়ায় অনেক মেয়ের ভিড়ে মিমের মধ্যে এমন কী দেখেছেন যাকে শেষ পর্যন্ত বিয়ের জন্য সিলেক্ট করলেন?
সিলেক্ট তো আমি ওকে করিনি, সে-ই আমাকে সিলেক্ট করেছে। দুজন-দুজনকে সিলেক্ট করেছি।

আপনি জিজ্ঞেস করেননি, সে কী দেখে আপনাকে সিলেক্ট করলো?
আমি সারাক্ষণই জিজ্ঞেস করি। আমি এখনো বুঝিনা ও আমাকে কী দেখে সিলেক্ট করলো। ওকে আমার ভালো লাগে, আমাকে ওর ভালো লাগে। এই ভালো লাগাটা আসলে সিভি দেখে হয় না। যেমন ওর নাক সুন্দর, চোখ সুন্দর, ও এটা পারে, ওটা পারে এসব দেখে আমার কাছে কখনো মনে হয়নি যে ভালোবাসা বিষয়টা এভাবে হয়। এটা কখন কীভাবে হবে বলা যায় না।

বিয়ের পর কি মনে হয় না যে আপনার জন্য অন্য কারোর হৃদয় ভেঙ্গেছে?
এটা মনে হয় না। কারোর জন্যই কারো জীবন থেমে থাকে না।

মিথিলার সাথে কি এখন আর আপনাকে পর্দায় আগের মতো দেখা যাবে?
ওই ধরনের সম্পর্কে মিথিলার সাথে আর অভিনয় করা হবে কি-না জানি না। তবে কাজ তো কাজই। আর মিথিলার সাথে ইজি গোয়িং ফ্রেন্ডশিপ ছিল, এখনো আছে।

মিম রশীদ নামের সাথে এখন আপনার নামের অংশ যোগ হবে নিশ্চয়ই?
না। মিম রশীদের পুরো নাম জাকিয়া রশীদ। ওটাই থাকবে।

মিম কি অভিনয় চালিয়ে যাবেন?
ও মুলত ক্যামেরার পেছনে কাজ করে। ভালো সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই করবে। কেন না!

বিয়ের আগে ঘুম থেকে ক’টায় উঠতেন আর এখন কখন উঠেন?
একই সময়ে উঠি। তবে এখন একটু দেরি করে অফিসে যাই। আর বিয়ের আগে অফিস থেকে দেরি করে ফিরতাম, এখন তাড়াতাড়ি ফিরি। সংসারে মনোনিবেশ করা আরকি!

অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
এ বছর আমার তিনটা সিনেমা রিলিজ পাচ্ছে। আনম বিশ্বাসের ‘দেবী’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘স্যাটার ডে আফটারনুন’। আর এর মধ্যে যদি ভালো অভিনয় করার সুযোগ হয়, করবো।

হানিমুনে কোথায় যাচ্ছেন এবং কবে?
নেপাল যাওয়ার কথা ছিল এখন আর যাচ্ছি না। যা ঘটে গেল, ওখানে গিয়ে ফূর্তি করার মানসিকতা নাই। আমাদের প্ল্যান ছিল দুই পরিবারের সবাই মিলে কাঠমান্ডু যাবো। এখন সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছি। হানিমুন বলতে ভাবছি ঈদের ছুটিতে একটু বাহিরে যাবো দু’জন। ওই হানিমুনে আর কেউ যাবে না। শুধুই আমরা দু’জন।

বিয়ের আগে ‘ভালোবাসি’ শব্দটা দুজনের মধ্যে কে আগে বলেছেন?
আমি… নো নো, ওটা খুবই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে তা কবে বলেছি তা-ও মনে নেই।

সূত্র- পরিবর্তন.কম