Friday , December 14 2018
Breaking News

কে এই নরপশু বাবুল মিয়া? জানলে অবাক হবেন

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে কিশোরী বিউটি আক্তারকে এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণ এবং মামলা করায় ফের ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে আজ শনিবার সকালে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সিলেটের বিয়ানিবাজার থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ২১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল।

এ ঘটনায় গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়।

বাবুলের বিরুদ্ধে শুধু বিউটির ওপর নির্যাতন ও হত্যা নয়, আগে থেকে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। রাস্তাঘাটে নারীদের উত্ত্যক্ত করা, সখ্য গড়ে প্রতারণা ও অনৈতিক কাজের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, ভয়ে অনেক নারীই কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। এই সুযোগে সে একের পর এক অপরাধ ঘটিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামে মৃত মলাই মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। ২০১০ সালে তার গ্রামের তৌহিদ মিয়ার মেয়ে, সিলেটের এক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পরও সে একাধিক নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অত্যাচার চালিয়েছে। রাস্তাঘাটে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করেছে।

বিউটির বাবা সায়েদ আলী বলেন, ‘বখাটে বাবুলের কারণে শুধু আমার মেয়েই নয়, এলাকার অনেক মেয়েই লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’

বিউটির মা হুসনে আরা বলেন, ‘বাবুল এলাকার উঠতি বয়সের তরুণী ও কিশোরীদের রাস্তাঘাটে পেলেই বাজে ভাষায় উত্ত্যক্ত করতো। কখনও কখনও গায়ে পর্যন্ত হাত দিত। তবে এলাকায় সে প্রভাবশালী হওয়ায় কারণে নিরীহ লোকজন কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।’

ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাবুলের অপকর্মের কারণে গ্রামের অনকে নারী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সে প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণীদের নিয়ে এসে আড্ডার নামে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতো।’