Friday , December 14 2018
Breaking News

ফখরুলকে ছাড়াই নেতাদের সঙ্গে শর্মিলার বৈঠক

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাদ দিয়ে বিএনপির তিন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি। গতকাল শনিবার রাতে গুলশানে বাসভবনে শর্মিলা বিএনপির তিন নেতাকে ডেকে পাঠান। এরা হলেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং ড: আবদুল মঈন খান।

রাত আটা থেকে সাড়ে নটা পর্যন্ত ওই তিন নেতা প্রয়াত কোকোর স্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। যদিও বৈঠক সম্পর্কে তিন নেতাই বলেছেন, ‘এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। বহুদিন পর তিনি এসেছেন, এজন্য তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।’

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের না থাকা প্রসঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানারেন ‘এটা কোনো বৈঠক না, তাছাড়া মহাসচিব শুক্রবারই ওনার সঙ্গে দেখা করেছেন।’

তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কোকোর স্ত্রী তিন নেতাকে দলে আরও সক্রিয় হবার পরামর্শ দিয়েছেন। দলের মহাসচিব যেন একা সিদ্ধান্ত না নেন, সে ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, শর্মিলা রহমান আন্দোলনের কি কি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আসন্ন দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে তিন নেতার মনোভাব জানতে চেয়েছেন। তবে এসব ব্যাপারে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত বা মতামত দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা বলেছেন ‘যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনার বার্তা দিয়েছেন শর্মিলা। এর ফলে মহাসচিব এখন একক কর্তৃত্ব দল চালাতে পারবেন না।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া বিএনপির সব ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শর্মিলা রহমান সিঁথির পরামর্শ নিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টেলিফোনে নির্দেশনা দেন।

তারেকের নির্দেশ পেয়েই মির্জা ফখরুল ছুটে যান গুলশানে, বেগম জিয়ার বাসভবনে। কোকোর স্ত্রী তাঁর দুই কন্যাকে নিয়ে এই বাসভবনেই উঠেছেন। এখানে প্রায় ১৫ মিনিট একান্তে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এরপর সেখানে আসেন আবদুল আউয়াল মিন্টু।

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, সিঁথি আন্দোলনের চেয়ে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য দলকে কাজ করার নির্দেশ দেন। সিঁথি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আপনাদের আন্দোলনে মা মুক্তি পাবে না। আমরা ওনাকে জেল থেকে বের করার চেষ্টা করছি। আপনি আমাদের সহযোগিতা করেন।’ মির্জা ফখরুল তাঁর কথার সঙ্গে সায় দেন।

৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বেগম জিয়া তাঁর পুত্র তারেক জিয়ার হাতে বিএনপি তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু লন্ডনে থাকায় তিনি বিএনপির নেতৃত্ব ঠিকমতো দিতে পারেননি। তাঁর কথাতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ উজ্জীবিত ও হতে পারেননি। আর একারণেই বিএনপির নেতৃত্ব দিতে লন্ডন থেকে শর্মিলা রহমানকে পাঠানো হয়েছে।

তবে বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্র বলছে, দল চালাতে নয়, সিঁথি মূলত: ঢাকায় এসেছেন বেগম জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে। বিএনপির কোনো নেতা যেন বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলতে না পারে সে কারণেই মির্জা ফখরুলকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে ফখরুলের ৫৮ দিনের বিএনপিতে রাজত্ব শেষ হলো।

এর আগে বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও ছোট মেয়ে জাহিয়া রহমান।

গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও ছোট মেয়ে জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের ছয় সদস্য।

আরও ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিমা ইসলাম, ভাই শামীম এস্কান্দার, ভাবি কানিজ ফাতেমা ও ভাগনে অভিক এস্কান্দার।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত তারা কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময়ে তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।