Friday , December 14 2018
Breaking News

রেসলিং কি সত্য, নাকি ভুয়া, এক বাঙ্গালি ছেলের রেসলিং দর্শন?

আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। আর যা-ই হই না কেন, আমি কোন রেসলিং ফ্যান না। তবু বাকেট লিস্টে ছিলো যে জীবনে একবার হলেও লাইভ রেসলিং দেখবো। তাই দেখতে যাওয়া আর কি! যে ভেন্যুতে খেলা হবে সেই স্টেডিয়ামের নাম প্রুডেন্সিয়াল সেন্টার। প্রুডেন্সিয়াল এক কোম্পানির নাম, সেই কোম্পানীর নামে স্টেডিয়ামের নাম। পুঁজিবাদী দেশ আমেরিকায় নামও বিক্রয় হয়, সব স্টেডিয়ামের নাম কোন না কোন কোম্পানী কিনে ফেলেছে, যেমন ‘মেটলাইফ স্টেডিয়াম’, ‘রেডবুল স্টেডিয়াম’ ইত্যাদি। ধরেন নিলাম করে আপনি যদি ঠিকমতো মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা দিতে পারেন, তাহলে আপনার দাদার নামেও স্টেডিয়ামের নাম রাখতে পারবেন- ‘আলহাজ্ব শুক্কুর আলী স্টেডিয়াম’

তো সেই স্টেডিয়াম আমাদের ডাউন্টাউনে। নিউইয়র্কের সব বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আসলে নিউজার্সির বিভিন্ন স্টেডিয়ামেই হয়, নিউইয়র্ক থেকে ট্রেনে আসতে মিনিট বিশেক লাগে, এইসব প্রোগ্রাম নিউইয়র্কের ভেন্যুতে করতে গেলে নানা সমস্যা পার্কিং টার্কিং নিয়ে, তাই সব বড় প্রোগ্রাম নুজার্সিতেই হয়। নিউজার্সিতে থেকেও আমার কখনো কোন প্রোগ্রামে যাওয়া হয়নাই কারন এসবের টিকেট তিন চার মাস আগে থেকেই করে রাখতে হয়। একদম এন্থুজিয়াস্টিক না হলে কেউ এত আগে থেকে টিকেট কাটে বলেন? সাধারণত বাঙালিরা এত ঝামেলা করে কোন ইভেন্ট দেখতে যায়না, এবার পাগলা এক স্প্যানিশ রেসলিং ফ্যান পাওয়ায় সে ই আগে থেকে টিকেটের ব্যবস্থা করেছিল তাই যাওয়া হয়েছে

টিকেট করার ইতিহাস নিয়ে অনেক স্ট্যাটাস ফেসবুকে দিয়েছি, তাই সেগুলা নিয়া আবার বলে লেখাটা বোরিং করলাম না, ডিরেক্ট গেটের সামনে চলে যাই। গেটের সামনে দাঁড়ায়া আমার সঙ্গী ইভান বললো আমি এখন একটা জিনিস খাবো, তেমন কিছু না জিনিসটা, সিগারেটের মতোই, খাইলে মাথাটা হালকা হবে, একটু সাইডে চল আমার সাথে! পকেট থাইকা বের কইরা একটা গাঁজার স্টিক ধরাইলো মেইন রোডের মাঝেই, তারপর এক চিপার দিকে হাঁটতে লাগলো, জিগাইলো আমি খাবো কিনা। আমি কইলাম মেইনরোডে দাঁড়ায়া গাঁজা খাওয়ার মত কলিজা হয় নাই এখনো আমার, তুই খাইয়া আস! সে চিপায় যেয়ে গাঁজা টেনে আসলো। তারপর গাঁজার গুনাগুণ শুনতে শুনতে আমরা পুনরায় গেটের দিকে গেলাম।

স্টেডিয়াম দেইখা আমার বসুন্ধরা সিটির কথা মনে পড়লো, কি সুন্দর ঝকঝকা, আমি আসার পরে যমুনা সিটি চালু হয়েছে তাই সেইটার কথা কইতে পারিনা, স্মৃতিতে ঝকঝকা বলতে বসুন্ধরা সিটির কথাই ভাসে। আমরা চেকিং টেকিং সেরে টিকেট দেখিয়ে ভেতরে ঢোকলাম। ভেতরে নিচে মার্কেটের মতো, নানা খানাপিনা আর রেসলিং এর স্যুভেনির বেচতেছে। রেসলাররা যে একরকম বড় বেল্ট নিয়া আসে সেইগুলাও বেচে, এই দোকান বেসিক্যালি ডব্লু ডব্লু ই কোম্পানীর সাথেই এসেছে, ওদের দ্বারাই পরিচালিত। একটা বেল্টের দাম জিগাইসিলাম- দেড়শো ডলার! বিনামূল্যে বেল্টটা কয়েকবার হাতায়া চইলা আসছি!

ভেতরে খাবার আর পানীয়ের দোকান আছে, দাম ম্যালা, একটা বিয়ারের দাম ১৩ ডলার, এক প্যাকেট পপকর্ণের দাম সাড়ে ৬ ডলার। ইভান দুইটা বিয়ার লইলো, আমি লইলাম একটা পপকর্ণ। সিট খুঁজে বের করলাম, এইটা একটা ইনডোর স্টেডিয়াম মানে উপরে ছাদ আছে মিরপুরের ইনডোর স্টেডিয়ামের মতো, এইখানে বেসিক্যালি কনসার্ট টনসার্ট হয় আর এইটা মূলত বাস্কেটবল খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এনএফএল আর এনবিএর জাতীয় পর্যায়ের খেলা এখানে হয়, এই খেলাগুলা আমেরিকায় খুবই জনপ্রিয়। যাইহোক স্টেডিয়াম খুব একটা বড় না, ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ বিশ পঁচিশ হাজার হবে। তবে রেসলিং এর স্টেজ বানানোর জন্য একপাশে বন্ধ করে দিছে তাই দর্শক ধারণ ক্ষমতা চার ভাগের একভাগ কমে গেছে, সেদিন দর্শক ছিলো ১০-১২ হাজার, তবে তিনপাশের গ্যালারিই কানায় কানায় পূর্ণ।

আমাদের সিট স্টেজ থেকে একটু দূরেই ছিলো, তবে আমাদের কপাল সুপ্রসন্ন থাকায় একটা জিনিস ভাল মিলেছে, দূরে থাকলেও আমরা ছিলাম স্টেজের একদম সরাসরি, যেদিক থেকে রেসলার স্টেজে আসে তার ঠিক উলটা পাশে, সেটাই ফ্রন্ট হিসেবে ধরা হয়, তাই আমরা আমাদের জায়গা থেকে স্টেজ, স্টেজে ঢোকার রাস্তা, আর দুইটা টিভি স্ক্রীনই সামনাসামনি দেখতে পাচ্ছিলাম। যেকোন এক সাইডে বসলে এই সুবিধাটা পাওয়া যেতো না। আমাদের এত দূরের সীটের জন্যেই দিতে হইছে ৬০ ডলার, যারা একদম স্টেজের পাশে বসে তারা দিয়েছে ১০০০ ডলার করে, তারা আবার মাঝে মাঝে রেসলারদের ধরতেও পারে, তাদেরকে টিভিতেও দেখায় বেশি। টিকিটের দাম ৩০ ডলার থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত।

কমবেশী সবাই সাথে করে পছন্দের লোকের নাম লেখা হাতে বানানো পোস্টার এনেছে। ইভান সেয়ানা মাল, সে তার পোস্টারে লিখে এনেছে- ‘ওয়েলকাম টু নুয়ার্ক’। কথা প্রসঙ্গে বলি, এই স্ম্যাকডাউন শো-গুলা আমেরিকার বিভিন্ন সিটিতে হয়, আমাদের এখানে আসে বছরে দুইবার, এমন অনেক সিটিতেই ঘুরে ঘুরে যায়। খেয়াল করে দেখবেন ওয়েলকাম টু অমুক জায়গা তমুক জায়গার পোস্টার টিভিতে সবসময় দেখায়, অর্থাৎ যে ভেন্যুতে খেলা হচ্ছে সেখানকার নামটা সবসময় দর্শকদের পোস্টার থেকেই দেখায়। ইভান বুদ্ধি করে সেটাই লিখে এনেছে।

রেসলিং শুরু হয় সন্ধ্যা সাতটা থেকে, আটটা থেকে সেটা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হয়। এর মাঝে আধাঘন্টার জন্য স্টেজের নিচে যে ব্যাকড্রপ থাকে সেই ব্যানারের লেখাটা চেঞ্জ করে ‘মেইন ইভেন্ট’ লাগিয়ে দিলো, মেইন ইভেন্ট আরেকটা রেসলিং এর প্রোগ্রাম, সেই একই স্টেজে তাদের নাম লিখে রেসলিং করে সেটা রেকর্ড করলো, অর্থাৎ টিভিতে সেটা পরে দেখাবে, কিন্তু মনে হবে মেইন ইভেন্ট আলাদা করে কোথাও সেই রেসলিং রেকর্ড করেছে। আধা ঘন্টা পরেই ব্যানার চেঞ্জ করে আবার ডব্লুডব্লুই স্ম্যাকডাউন লাগিয়ে দিলো। আটটা বাজার পনেরো মিনিট আগে বললো আমরা এখন ট্রেলার হিসেবে তিরিশ সেকেন্ডের জন্য লাইভে যাবো, অর্থাৎ টিভিতে দেখাবে যে পনের মিনিট পরেই আ-সি-তে-ছে… সবাই রেডি… সবাইকে বললো তোমাদের যার সাথে যা পোস্টার আছে তা তুইলা ধরো আমরা এখন লাইভে যাচ্ছি… টেন… নাইন… এইট…
পাব্লিক প্রচুর জোরে চিল্লানি দিয়া পোস্টার ধরলো… ৩০ সেকেন্ড খালি দর্শক দেখাইলো… সে কি খুশি পাব্লিক… সারা স্টেডিয়াম ঘুরে শেষে ক্যামেরাটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য কার পোস্টারে স্থির হইলো জানেন? ইভানের পোস্টারে- “ওয়েলকাম টু নুয়ার্ক”!! ঠিক তার পরপরই আমি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিছিলাম! যাই হোক এই ঘটনার পরে আমরা আমাদের সীটের আশেপাশের এলাকায় হিরো হইয়া গেলাম- আমাদের পোস্টার টিভিতে দেখাইসে! আমাদের ভাবই আলাদা হইয়া গেলো! পেছনের কয়েকজন সুন্দরী নারী আমাদের পাত্তা-টাত্তা দিচ্ছিলো না, তারাও একটু নড়েচড়ে বসলো!

যাইহোক, খেলার কথায় আসি এইবার। খেলোয়ারেরা একে একে এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। এ যুগের অনেক রেসলারই চিনি না, ইভান চিনে, সে আমারে মাঝে মাঝে বলছিলো এই প্লেয়ার ভাল, ও খারাপ। প্রথম পরিচিত প্লেয়ার পাইলাম আন্ডারটেকারের ভাই কেইন। আমরা যেমন আন্ডারটেকারের ভাই কেইন বইলা পরিচয় দিতাম, ইভানও দেখলাম একই ভাবে পরিচয় করায়া দিলো- আন্ডারটেকারের ভাই কেইন হিসাবে। বুঝলাম বেচারা আন্ডারটেকারের ছায়া থাইকা বাইর হইতে পারেনাই, না বাংলাদেশে, না আমেরিকায়। সে লড়ছিলো রেন্ডি অর্টনের বিরুদ্ধে। যাইহোক এলাকায় যেমন সিনিয়র-জুনিয়র খেলা হইলে সিনিয়র সাপোর্টাররা সিনিয়রদের পক্ষেই থাকেন তেমনি আমিও তাই কেইন ভাইয়ের পক্ষ নিলাম, হাজার হলেও আমাদের যুগের রেসলার! লোকজন বেশি রেন্ডি’র পক্ষেই, লোকজন শ্লোগান দিচ্ছিলো, আমিও কেইন ভাইকে উতসাহ দিলাম তালে তালে ‘কোপ-পা- শামসু! কোপ-পা-শামসু!!’ বলে। লাভ হইলো না। মিনিট পাঁচেকের মাঝে কাকা ধরাশায়ী হইয়া গেলো। আমি মনে মনে পড়লাম… এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান…

যাই হোক বিখ্যাত রেসলারদের মাঝে ছিলো রেন্ডি অর্টন, কেইন, এজে স্টাইল, ডিন এম্ব্রোস, ইয়েস, জিগলার এবং আরো অনেকে, নাম মনে নাই সবার। তারা অবশ্য এইযুগের হিরো, এখন যারা বাচ্চাকাচ্চা মে বি তাদের ক্রেজ। নারী রেসলারদের মাঝে ছিলো বেলা, নিকি, এলেক্সা ব্লিস। মোটামুটি ভরপুরই বলা যায়। অবশ্য আমি রেসলিং ফ্যান না, তাই আমার কাছে যাহাই বায়ান্ন তাহাই তিপ্পান্নো।

এবার আপনাদের মূল প্রশ্নে আসি, জানি কি শোনার জন্যে এই পোস্ট পড়তে আসছেন। হ্যাঁ রেসলিং জিনিসটা আসল না, মারামারিটা আসল না, আমরা টিভিতে দেখে যা ভাবতাম তা না, এইটা আসলে সাজানো নাটকের মতোই। না, এইখানে কোন একশন/কাট বলে শূটিং করা হয়না, এইটা ধরেন মঞ্চ নাটকের মতো, যা হচ্ছে তা লাইভ হচ্ছে। অবশ্য ওরা তো আর দর্শকদের বলবে না যে আমি কিন্তু সত্যি সত্যি মারতেছিনা অথবা হালকা কইরা মারতেছি যেন ব্যথা না পায়। আসলে বডি ল্যাংগুয়েজ টিভিতে দেখেই বুঝার কথা যে এইগুলা রেসলিং অনেকটা নাটকের মতো।

একজন মানুষ যখন সত্যিসত্যি মারামারি করে তখন সে কোনভাবেই রিল্যাক্স থাকতে পারে না, সে থাকে ক্ষিপ্র, চোখে থাকে সতর্ক চাহনি, আর থাকে একটা টান টান টেনশন, রিয়েল লাইফে অনেক মারামারি দেখার এক্সপেরিয়েন্স থেকে বলতেছি। ডব্লুডব্লুই’র
রেসলাররা একে অন্যের হাতে যেভাবে আছাড় খায় তা দেখলে মনে হয় এদের জন্মই হইছে আছাড় খাওয়ার জন্য! ধরেন আপনে কাউরে মারতেছেন, তারে কি নাটক কইরা কইরা মারবেন? নাকি যেমনে পারেন পিটায়া আগে তারে নরম করবেন?

রিয়েল মারামারির রেসলিং যদি দেখতে চান তাহলে আপনাকে দেখতে হবে ইউএফসি’র রেসলিং (ইউনাইটেড ফাইটিং কর্পোরেশন), ইউটিউবে এদের একটা ভিডিও দেখলেই পার্থক্যটা ধরতে পারবেন, ওইগুলা একদম রিয়েল। ইউএফসির সাথে ডাব্লুডাব্লুইর মূল পার্থক্য হচ্ছে ইউএফসির ওরা এত নাটক কইরা কইরা মারেনা, অনেকটা বক্সিং এর মতো, মারামারি আসলে নাটক কইরা কইরা করা সম্ভব না, সিনেমায় সম্ভব। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন? ডব্লুডব্লুই ভূয়া হওয়া সত্ত্বেও এটারই দুনিয়া জুড়ে বেশী ভক্ত, মারামারির যেকোন ফরম্যাটের চেয়ে এদের রেসলিং পৃথিবীব্যাপী বেশি ফেভারিট। কারনটা কি জানেন? কারন হচ্ছে আমরা মানুষেরা নাটক পছন্দ করি
এর মানে এইনা যে তারা কোন ব্যথা পায়না, হ্যাঁ তারা ব্যথা অবশ্যই পায়, তবে যতটা পাওয়ার কথা ততোটা পায়না। ইউএফসি আর ডব্লুডব্লুই’র কিলের স্টাইলের পার্থক্য দেখলে আরো ভালো বুঝা যাবে বিষয়টা। আর এগুলো নাচের মত প্রতি স্টেপ কোরিওগ্রাফ করা থাকেনা, তাদের শুধু বলে দেয়া হয় তোমরা দুইজন খেলবা, আর আজকে জিতবে অমুক! এইটা অনেকটা মোস্তফা সারোয়ার
ফারুকীর স্ক্রিপ্টবিহীন নাটকের মতো, বলে দেয়া হয় এই ঘটনার পর ওই ঘটনা হবে, কিন্তু ডায়লগ যার যার নিজের। আর এইখানে যে যত মাইর সহ্য করতে পারে সে ততবড় হিরো। সেদিনের লাস্ট খেলায় ডিন এম্ব্রোস প্রথমে সেইরকম মাইর খাইলো, সত্যি সত্যি সেইরকম, যেভাবে আছাড় আর লাথি গুঁতা খাইছে সেইটা ভুয়া হইয়া থাকলেও প্রচুর ব্যথা পাইছে, তখনই আমার মনে হইছে এজেস্টাইলকে হারায়া সে-ই জিতবে! আসলেও তাই ব্যাপক বিনোদন দিয়ে শেষমেস সে-ই জিতেছে, দর্শক অনেক মজা পাইছে!

একজন প্রশ্ন করেছিলেন ভুয়া জেনেও মানুষ কেন দেখে এসব? আচ্ছা আপনি তো জানেন যে নাটকে বা সিনেমায় যা দেখায় তা সত্যি কাহিনী না, তবু আপনি কেন নাটক সিনেমা দেখেন? ক্লাশ থ্রি তে নাকি ফোরে থাকতে আমি প্রথম জেনেছিলাম সিনেমায় যা দেখায় তা আসলে সত্যি না, আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম, প্রতারিত হওয়ার দুঃখ। তারপরেও সেই দুঃখে তো সারাজীবনে সিনেমা দেখা বন্ধ করে দেই নাই। আপনিও বন্ধ করেন নাই। ঠিক এইটাই কারন। আর এই ফরম্যাটটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় আগেই বলছি, কারন এরা অনেক কাহিনী কইরা কইরা মারে। নরম্যাল আসল বক্সিং, তায়কোন্দো, ইউএফসি যা ই বলেন না কেন আর কেউ এত সময় নিয়া লম্বা লম্বা কইরা নাটক কইরা দেখায় না তাই ভূয়া হওয়া সত্ত্বেও এইটা জনপ্রিয়।

আর এরা যে স্টেজে কথা বলে সেগুলাও অনেক জনপ্রিয়, আমরা আগে টিভিতে কথা বলতে দেখলে বিরক্ত হইতাম, মনে মনে কইতাম কথা কম কইয়া মাইর কর শালা! এইখানে কিন্তু মানুষ কথাগুলা বেশি বেশি এঞ্জয় করে, জোরে জোরে চিয়ার করে, রেসলাররা একে অন্যকে মজার মজার ভাষায় ইনসাল্ট করে, এইগুলাও কিন্তু ডব্লু ডব্লু ই তে আলাদা ফেভার যোগ করে, আর
এইগুলা আসলে এক পর্ব থেকে আরেক পর্বে চলতে থাকে, এইগুলার সিকুয়েল আছে, যারা ক্রেজি ফ্যান তারা এইগুলাও ফলো করে, আমাদের মত শুধু মারপিট দেখেনা। আরো মজা আছে। ধরেন খেলার মাঝে এক পাগলা রেসলার স্টেজের নিচে আইসা পাগলামি করতেছে, তখন অনেক সিকিউরিটি আইসা ওরে দৌড়াইয়া ধরতে চাইছে, সে দর্শকদের মাঝে দৌড় দিছে, লুকোচুরি করা শুরু করছে। সবাই এসময় ব্যাপক মজা পাইছে। দেখেন আমি নিজেও বুঝতাছি এইগুলা নাটক, তবু আমি নিজেও ভয়াবহ মজা পাইছি এই ঘটনাটায়!
যেকোন জিনিস টিভিতে দেখার চেয়ে স্টেডিয়ামে বসে দেখে মজা। রেসলিং এ যে ডিজে করে আর সাউন্ড সিস্টেমে ঢিশটিং ঢিশটিং মিউজিক চালায় সেইটা শোনলেই পয়সা উশুল, এর পরে যা দেখবেন সব বোনাস। ধারাভাষ্য পারফেক্ট! মাঝে মাঝে পটকা ফাটায় ঢাম্মম্মম্মম কইরা, সেইরকম ফিলিংস পাইছি শুধু সাউন্ড সিস্টেমেই, কইলাম তো বাকি সব বোনাস! আর আমেরিকান দর্শকরা প্রায় সবাই ইন্টারএক্টিভ, খেলার সাথে খুবই ইনভলভড থাকে সবাই। ধরেন আমার মত অগামগা কমই যায়, আমিতো গেছি ঘটনাটা কি

বুঝতে। যারা যায় তারা প্রায় সবাই এন্থুজিয়াস্টিক, তারা খেলার খবর রাখে বইলাই তাদের প্রিয় খেলা দেখতে যায়! সবাই তো আর সব খেলা দেখতে যায়না, যার যে খেলা পছন্দ সেইটাই টিকেট কেটে দেখতে যায়। যখন ইয়েস স্টেজে আসলো তখন পুরা স্টেডিয়াম ওর স্টাইলে দুই হাত উপরে তুলে একসাথে ইয়েস! ইয়েস! ইয়েস! ইয়েস ! করতে থাকলো। আমার অদ্ভূদ লাগ্লো তখন, সেই ফিলিংসটা বলে বুঝানো যাবে না। আমি পুরাই অবাক হইয়া গেছি আর কেন ইয়েসরে চিনিনা আর কেন এদের সাথে এমন মন খুলে শামিল হইতে পারলাম না ভাইবা আফসোস লাগলো!