Tuesday , October 16 2018
Breaking News

তিন মিনিট দেরি, শতচেষ্টায়ও পরীক্ষা দেওয়া হলো না শামিরের

ঘড়িতে তখন প্রায় পৌনে বারোটা। এইচএসসি পরীক্ষার্থী শামির আহমেদ অংকন। দাঁড়িয়ে আছেন কবি নজরুল কলেজের বাইরে। এ কলেজেরই ছাত্র তিনি। কিন্তু বিভ্রান্ত শামির পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে কেন?

কথা হয় নিরুপায় বিভ্রান্ত শামিরের সাথে। জানা যায়, তার পরীক্ষা কেন্দ্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, লক্ষ্মীবাজারে। কবি নজরুল কলেজ থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বই বলা চলে। কিন্তু শামির পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘড়িতে বেজে যায় ১০টা তিন। এ সময় আর পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারেননি তিনি।

শামির সারাবাংলাকে জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পনের মিনিট পর পর্যন্ত হলে ঢোকার নিয়ম আছে। আমি মাত্র তিন মিনিট দেরিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাই। পথে জ্যাম ছিল অনেক। পায়ে হেঁটে যাওয়ায় দেরি হয়ে যায়।

সোরাওয়ার্দী কলেজের গেটে অনেক অনুনয় বিনয় করেও পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারেননি শামির, শেষে হাল ছেড়ে ছেলেটি ফিরে আসেন নিজ কলেজ কবি নজরুলের গেটে। ততক্ষণে পরীক্ষার একঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। গেটে কড়া পাহারা। তা গলে ঢুকতে পারবে না একটি মাছিও।

সোমবার (২ এপ্রিল) সারাদেশে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রশ্ন ফাঁসের রবে এবার পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় নিয়ে দারুণ কড়াকড়ি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে। সকাল সাড়ে নয়টার পরেই আর ঢুকতে দেওয়া হয়নি কোনো শিক্ষার্থীকে। বিপাকে পরেন কেন্দ্রে দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীরা ।

পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রে প্রবেশের মূল গেইট ঠিক সাড়ে নয়টার সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময়ের পরে যারা আসেন তারা পড়েন ভোগান্তিতে
কয়েকটি কেন্দ্রে যারা নির্দিষ্ট সময়ের পরে পৌঁছেছেন, তাদেরকে প্রথমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নাম-পরিচয় তালিকাভুক্ত করে পরে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে সরকারি কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার সারাবাংলাকে জানান, মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশ ছিল। আমরাও আমাদের কেন্দ্রে সাড়ে নয়টার পরে মূল ফটক বন্ধ করে দেই। তারপরের পনের মিনিট নাম ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লিখে রাখার শর্তে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেই। দশটার পরে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
শামিরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের অন্য একজন ছাত্র ছিল যার বাবা মারা গিয়েছিল। তার বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। আজ সকালে সে আমাদের কলেজ থেকে অ্যাডমিট কার্ড নিয়েছে। তার বিষয়ে কেন্দ্রে বলা ছিল। শামিরের বিষয়ে আমরা জানতাম না, ফলে আমাদের করার আর কিছুই ছিল না।

পরীক্ষার্থীদের নির্দেশিত সময়ের কথা মাথায় রেখে ঘর থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেন, সরকারি কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ।

শামির অনেকক্ষণ কলেজের বাইরে দাঁড়িয়ে পরে নিজেই নিজেকে প্রবোধ দেন, “কিছু হয়নি, আবার আগামী বছর পরীক্ষা দিবো!” এরপর হন হন করে রাস্তা পাড় হয়ে বাড়ির পথ ধরেন।