Thursday , April 26 2018
Breaking News

হঠাৎ ‘নিষিদ্ধ পল্লীতে’ মেয়র আরিফুলের হানা!

সিলেট নগরীর পৌরবিপণী মার্কেটের দ্বিতীয়তলা। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘর তৈরি করে ‘ব্যাচেলর হোটেল’ নাম দিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন নগরীর মেন্দিবাগের আলাউদ্দিন আলোসহ বেশ কয়েকজন। আসলে ‘ব্যাচেলর হোটেল’ নামের আড়ালে সেখানে চলছিলো অসামাজিক কার্যকলাপ।

সোমবার (২ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ করেই সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ওই মার্কেটের দ্বিতীয়তলা পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সেখানে গিয়ে তিনি ‘নিষিদ্ধ পল্লীর’ সন্ধান পান। পরে পুলিশ ডেকে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ছয় যৌনকর্মী ও হোটেলের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে আবদুস শহীদ নামে এক কর্মচারী জানান, ওই ‘নিষিদ্ধ পল্লীর’ মালিক নগরীর মেন্দিবাগের আলাউদ্দিন আলো।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আজ দুপুরে পৌরবিপণী মার্কেট পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তখন ওই মার্কেটের নিচতলার ব্যবসায়ীরা জানান, দ্বিতীয় তলায় অবৈধভাবে নির্মিত ‘হোটেল ব্যাচেলরে’ দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন আলাউদ্দিন আলো। এমন তথ্যে সেই হোটেলে অভিযান চালান মেয়র।

অভিযানের খবর টের পেয়ে হোটেলে থাকা ছয় নারী সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে নিচের একটি রুমে আত্মগোপন করেন। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা ওই রুম থেকে তাদেরকে বের করে আনেন। এছাড়া হোটেলের দুই কর্মচারীকেও আটকে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে দুই কর্মচারী ও ছয় যৌনকর্মীসহ হোটেল থেকে উদ্ধার করা মাদক সামগ্রী থানায় নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে আলাউদ্দিন আলো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ব্যাচেলর হোটেল’র সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। সন্ধ্যাবাজার ব্যবসায়ী সমিতি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ওই হোটেল পরিচালনা করে বলে দাবি করেন তিনি।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ফয়সাল মাহমুদ জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। হোটেলের ভেতরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে এরকম অসামাজিক কার্যকলাপের পেছনের মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, পৌরবিপণী মার্কেট এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে দ্বিতীয়তলায় নির্মিত ঘরগুলোও অবৈধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ঘরের ভেতর অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে বলে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছিলেন। তাই এটি ভেঙ্গে ফেলা হবে।