Monday , December 17 2018
Breaking News

কাঁদছেন ভগবান, ‘পবিত্র’ অশ্রু পানি সংগ্রহে হুলস্থূল!

গাছ থেকে পানি বের হওয়া

প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসে ভেঙে পড়া একটি গাছ নিয়ে অসম্ভব রকমের হুলস্থূল পড়ে গেছে। ঝড়ে ভেঙে পড়া ওই গাছটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কেটে ফেলার পর এর ভেতর থেকে পানি বের হচ্ছে। আর এটা দেখে লোকজন দাবি করছে- গাছটি কাটায় ব্যথা পেয়ে ভগবান কাঁদছেন। তারা বলাবলি করছেন, এই পানি ভগবানের অশ্রু।

এমন কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তেই ভগবানের চোখের পবিত্র পানি সংগ্রহ করতে বলা যায় এক প্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন জনসাধারণ।

ভগবানের চোখের পানি সংগ্রহ করতে আসা ওই সমস্ত লোকজনের ভিড়ের কারণে ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচল পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটি এখানেই শুধু থেমে নেই, গাছটি ঘিরে উলুধ্বনি দিয়ে ওই গাছের জায়গায় মন্দির বানিয়ে পূজা করার ঘোষণা পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের উল্টোডাঙার রমাকান্ত সেন লেনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এর আগে, রবিবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা রাতে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে ওই এলাকার বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এরপর কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডর নির্দেশে পৌরসভার কর্মীরা ভেঙে পড়া কিছু গাছ কেটে ফেলেন।

পৌরসভার কর্মীদের কেটে ফেলা একটি ডুমুরগাছ থেকে পানি বের হচ্ছে বলে গুজব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর এ গুজবকে ঘিরেই মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে ওই এলাকায় হুলস্থূল তৈরি হয়।

এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা ওই গাছ থেকে বের হওয়া ‘পবিত্র’ পানি পাত্রে ভরে বাড়িতে নিতে ভিড় শুরু করে দেন। এ সময় অনেকেই বলতে থাকেন, এই গাছে ভগবান আছেন। গাছটি কাটায় তার ব্যথা লেগেছে। মন্দির হলে প্রতিদিন আসব।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ঝড়ে ভেঙে পড়া একটা ডুমুরগাছ কেটে ফেলার পর থেকে পানি পড়ছে। সবাই বলছেন গাছে ভগবান আছে। আমি জানি না এর বেশি কিছু।

এ ব্যাপারে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সাবেক যুগ্ম পরিচালক অরবিন্দ প্রামাণিক বলেন, এ নিয়ে বড় ভুল হচ্ছে। এর পিছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

তিনি বলেন, গাছটির ছবি দেখে মনে হচ্ছে, এটি একটি পাকুড়জাতীয় গাছ। বৈজ্ঞানিক নাম ফিকাস ইনফেকটোরিয়া। এদের ডাল কাটলে বা পাতা ছিঁড়লে জলীয় পদার্থ বের হয়।

অরবিন্দ প্রামাণিক আরো জানান, এই জলীয় পদার্থ আদতে গাছের বর্জ্য। ডাল ভেঙে গেলে বা পাতা ঝরে যাওয়ার সময় ওই বর্জ্য ক্ষরণ হয়। এক্ষেত্রেও তেমনটিই হচ্ছে।

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা বৈজ্ঞানিক এসব ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়।