Wednesday , December 19 2018
Breaking News

স্বস্তিকা মুখার্জির রিপ্লেসমেন্ট কলকাতা শহরে পাওয়া যাবে না

প্রত্যেক মাসে নতুন ছবি করার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই তাঁর। তাই চরিত্র বা কাজের ধরন পছন্দ না হলে অনায়াসে ‘না’ করে দিতে পারেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। মানুষকে সব বিষয়ে কৈফিয়ত দেওয়ার দায় নেই তাঁর, পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন ‘এবেলা’কে।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এ বছর কতটা ব্যস্ত?
এখন জিগ্যেস করলে বলব একদমই নয়! একটা হিন্দি ছবির শ্যুট শেষ করলাম কে কে মেননের সঙ্গে। ভোপালে শ্যুট ছিল। আর একটা বাংলা ছবির শ্যুট চলছে। এর বাইরে কিছুই প্ল্যান করিনি। গত বছর যে মরাঠি ছবিটা করেছিলাম, সেটা হয়তো এ বছর মুক্তি পাবে। বাকি বছরটা বাড়ি বসে ঘুমবো, কিছু না হলে। অত প্ল্যান করে চলা যায় নাকি!

 বিরসা দাশগুপ্তের ছবিটা ছেড়ে দিলেন। উনি তো আপনার অনেক দিনের বন্ধু। বন্ধুদের ‘না’ বলতে অসুবিধা হয় না?
(একটু থেমে…) বন্ধুদের ‘না’ বলাটা একটু কঠিন বটেই। সেখানে তো শুধু পেশাদার সম্পর্ক কাজ করে না, তাই একটু মুশকিল হয়ে যায়। আবার আমি পেশাদার বলেই যেখানে ‘না’ বলা উচিত, সেখানে তো আমায় বলতেই হয়। তবে মনে হয় না, এই নিয়ে বিরসার সঙ্গে আমার পরে ঝামেলা হবে। তারপর তো ওর সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে, হোয়াট্‌সঅ্যাপে চ্যাট হয়েছে।

মৈনাক ভৌমিকের সঙ্গে ঝামেলাটা মিটিয়ে ফেলছেন না কেন তাহলে?
ওর সঙ্গে যে আমার কীসের ঝামেলা সেটাই আমি ঠিক জানি না। আমার তো মনে হয় লোকে বলে বলেই আরও ঝামেলাটা বাধিয়ে দিল!

পর পর এতগুলো ছবি করছেন মৈনাক। একটাতেও আপনাকে না দেখতে পেলে তো লোকে এই রকম ভাববেই…।
ওর ছবিতে আমায় আর কাস্ট করছে না মানেই কিন্তু ঝামেলা হওয়াটা জরুরি নয়। ওর যখন আবার আমায় প্রয়োজন পড়বে, ও নিশ্চয়ই বলবে।

বাংলা সিনেমায় কি নিজেকে একটু স্যাচুরেটেড মনে হচ্ছে আপনার?
আমার খুব একটা চাপ নেই যে, প্রত্যেক মাসে একটা করে ছবির পোস্টার ফেলতে হবে। এক তো, যে ধরনের চরিত্র আমায় এক্সাইট করে, সে রকম চরিত্রই এখন এত কম লেখা হচ্ছে। তার উপর আজকাল নতুন ট্রেন্ড হয়েছে, চেক বাউন্স করার। খেটেখুটে কাজ করব, তারপর একটা চেক দেবে, সেটা বাউন্স করবে, পরেরটা দেবে সেটাও বাউন্স করবে! টাকা পাচ্ছি না বলে যদি পরদিন শ্যুটিংয়ে না যাই, তখন রটে যাবে স্বস্তিকা মুখার্জির নানা রকম ট্যানট্রাম, মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে, তার জন্য শ্যুটিং বন্ধ হয়ে গিয়েছে! পরিচালকরা তখন ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’ বলে নানা রকম লেকচার দেবে। সেগুলো শুনে হয়তো শ্যুট করেও নেব, কিন্তু বছর ঘুরে যাবে, টাকা পাব না। শ্যুটিংয়ে না গেলে এত লেখালেখি হয়, টাকা না পেলে সেটা নিয়ে কেউ লেখে না। তাই ছবি বাছার আগে এখন অনেকগুলো দিক বিবেচনা করতে হয়। মনের মতো চরিত্র, শ্যুটিং বন্ধ হয়ে যাবে না, চেক বাউন্স করবে না, ছবি মুক্তি পাবে— এতগুলো দিকের গ্যারান্টি পেলে তবেই কাজ করা যায়। নয়তো অভিনেতাদের নিষ্ঠা কোনও কাজে লাগে কি? এই ‘বীরপুরুষ’এর কথাই দেখুন। এত কাণ্ড করে চুল-টুল রং করালাম। ছবিটা আটকে গেল। এ রকম হলে অভিনেতাদের নিষ্ঠা নিয়ে পরিচালকেরও কিছু করার থাকে না, প্রযোজকদের তো থাকেই না।

 বলিউডে এখন ছেলে-মেয়ের সমান পারিশ্রমিক নিয়ে কথা হয়। আর এখানে পারিশ্রমিক পাওয়াটাই যেন সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে!
আগে তো পারিশ্রমিক পাই, তারপর সমান পারিশ্রমিক নিয়ে কথা বলব! এখানে তো টাকাই পাওয়া যায় না। মনে হয় যেন চ্যারিটেবল ট্রাস্ট খুলে বসে আছি। এবারের নারীদিবসে আমি একটা পোস্ট করেছিলাম, ‘ডোন’ট এমপাওয়ার মি, পে মি’! নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলে কী হবে, যদি আর্থিক স্বাধীনতাই না থাকে!

‘দুপুর ঠাকুরপো’র টানেই ‘হইচই’এর অ্যাপ এত বিপুল পরিমাণে ডাউনলোড হল। সেটারই দ্বিতীয় সিজনে রিপ্লেসড হয়ে গেলেন। খারাপ লাগল না?
স্বস্তিকা মুখার্জির রিপ্লেসমেন্ট কলকাতা শহরে পাওয়া যাবে না। তাই শব্দটাই ভুল। আমি কাজটা ছেড়ে দিয়েছি বলে অন্য কেউ করছে। এই শো’য়ের প্রযোজক ছিল ‘টিভিওয়ালা মিডিয়া’। আমি ওদের সঙ্গে আর কাজ করতে চাই না। ওদের শো’টা করতে গেলে অন্য লোক নিতেই হবে। শ্রীলেখা নিজের মতো অভিনয় করবে। আমার রিপ্লেসমেন্ট কেউ নেই। আমি কি নতুন নাকি, যে কাস্ট করে বাদ দেওয়া হবে? আমি চাইনি বলেই কাজটা করছি না। আর এর সঙ্গে এসভিএফ’এরও কোনও সম্পর্ক নেই। অনেকে আবার বলছে, আমার নাকি ওদের সঙ্গে আবার পুরনো ঝামেলাটা শুরু হয়েছে। সেটাও সম্পূর্ণ ভুল।

 আপনার জন্যই শো’টা এত সাফল্য পেল। সেটা ছেড়ে দিতে মন খুঁতখুঁত করল না?
এতে আমার চেয়ে বেশি ওদের লস। আমার কেন খারাপ লাগবে? আর কিছু ক্রেডিট নিই বা না নিই, এই শো’য়ের সাফল্যের পিছন আমারই ক্রেডিট। আমার জন্যই শো’টা এত হিট। এটা আমি কারও সঙ্গে ভাগ করে নেব না।

এই প্রথম অঞ্জন দত্তের সঙ্গে ব্যোমকেশের বাইরে অন্য কোনও ছবি করলেন। পরিচালক হিসেবে কোনও তফাত বুঝলেন কি?
অঞ্জনদা অনেকদিন ধরে পর পর শুধু ব্যোমকেশই করছিলেন। তাই হয়তো ‘আমি আসব ফিরে’ করতে পেরে ওঁর নিজের অনেকটা অন্য রকম লেগেছে। তবে পরিচালক হিসেবে দেখলাম উনি অনেক বেশি শান্ত, কম্পোজড। আসলে ব্যোমকেশের ব্র্যান্ডটা আগে থেকেই তৈরি। শরদিন্দুর লেখা অনুযায়ী দেখাতে হবে। চাইলেই ব্যোমকেশকে একটা চেজ সিকোয়েন্স দিয়ে দেওয়া যাবে না। তার উপর পিরিয়ড পিস। এসবে একটা বাড়তি চাপ তো থেকেই যায়। এখানে গল্পটা ওঁর নিজস্ব। তাই কাজ নিয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা রয়েছে। মিউজিক ইজ দ্য স্টার অফ দ্য ফিল্ম। অঞ্জনদার পুরো জীবনটা জুড়েই তো সংগীত। তাই এই ছবিতে বোধহয় অনেকটা নিজের মতো কাজ করতে পেরেছেন।

দর্শনা-সৌরসেনীদের কেমন লাগল?
ওদের তো এতদিন শুধু হোর্ডিংয়েই দেখেছিলাম। কাজ করে বেশ ভালই লাগল। নতুন ট্যালেন্টের প্রয়োজন সারাক্ষণই থাকে। ওদের যেটা ভাল দিক, ওরা একদমই পাকা নয়। ‘সব জেনে গেছি’ ভাব করে কাজ করে না। সিনিয়রদের বেশ শ্রদ্ধা করে। মাঝে মাঝেই জিগ্যেস করত, আরও ভাল কী করে করা যায়। এই খিদেগুলো থাকা ভাল। সবে শুরু করেছে তো, এখনও অনেক কিছু শেখা বাকি। তবে ওদের সঙ্গে কাজ করাটা খুব চাপের মধ্যে রিলিফ ফ্যাক্টরের কাজ করত। ধরুন, একটা অসম্ভব সিরিয়াস দৃশ্য হচ্ছে, তার মধ্যেই সৌরসেনী একটা ভীষণ বোকা জোক বলে অসম্ভব হাসতে শুরু করল। আবার ওদের মনে ভয়ও রয়েছে, অঞ্জনদা বকবেন— এগুলো বেশ মজা লাগত।

কোনও বাংলা ছবির ক্ষেত্রে কী দেখে একটা ছবি বাছেন?
পারিশ্রমিক আর বাকি দিকগুলো তো বলেইছি। তা ছাড়া নিজের পারফরম্যান্সের কতটা সুযোগ আছে, সেটা দেখি। একই রকম চরিত্রে নিজেকে রিপিট করতে চাই না। কিন্তু ‘সাহেব বিবি গোলাম’ বা ‘আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস’এর মতো ছবি সফল হয়েছে বলেই বোধহয় পরিচালকরা বার বার আমায় সেই অ্যালকোহলিক খ্যাপাটে মহিলার চরিত্রগুলো দেয়। যে কথায় কথায় সবাইকে ফা* অ* বলবে! কিন্তু আমি যদি বলি, সেটার বদলে যে চরিত্রটা মাথায় ঘোমটা দিয়ে বাড়িতে বসে থাকে, সেটা করতে চাই, তখন শোনে না। তখন সেই ছবিগুলো ‘না’ করে দিই! তবে এই রিপিট করার ব্যাপারটা তো সর্বত্র। একটা ভূতের ছবি সফল হলে পর পর লোকে ভূতের ছবিই বানাতে থাকে।
দেড় বছর হল মুম্বই-কলকাতা করছেন। লড়াইটা কি একটুও বদলেছে?
লড়াইটা একই রয়েছে। তবে সেটা নিয়ে এখন আর আমি ঘ্যানঘ্যান করি না।

এক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার আপনার আর সুমন মুখোপাধ্যায়ের প্রচুর ছবি দিতেন। এখন সেগুলো দেখা যাচ্ছে না বলেও অনেকে নানা রকম কথা বলছেন।
এই জন্যই দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। যুগটাই এমন যে, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছু সামনে চলে আসে। আর মানুষের সব বিষয়েই নানা রকম বক্তব্য রয়েছে। আমি ঠিক করে নিয়েছি, মানুষের ভুল ভাঙানো বা তাঁদের ঠিকটা বোঝানোর দায়িত্ব আমার নয়।

অবসর সময় কী করেন?
প্রচুর ছবি দেখি আর স্ক্রিপ্ট পড়ি। যেগুলো ফেলে দেওয়ার, ফেলে দিই, যেগুলো ভাল লাগে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি। তাছাড়া এ মাসে ভাবছি বেড়াতে যাব। অনেকদিন যাইনি।