Saturday , April 21 2018
Breaking News

মাত্র ৩০০ টাকা লোভে রথীশ চন্দ্রের লাশ গুম করে দুই ছাত্র

স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের জেরে খুন হয়েছেন রংপুরের আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা। রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল সহকর্মী কামরুল ইসলামের। এর জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

বুধবার সকালে র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজির আহমেদ।

তিনি জানান, দুইমাস ধরে রথীশকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দীপা ও কামরুল। ২৯ মার্চ রাত দশটায় রথীশ শহর থেকে বাড়ি ফেরার পর তাকে ভাত ও দুধ খেতে দেন দীপা। আগেই ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি মেশানো হয়। ভাত ও দুধ খেয়ে নিজের শোবার বিছানায় অসচেতন হয়ে পড়েন রথীশ।

এই ঘরে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিলেন কামরুল। তারা দু’জনে মিলে রথীশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

পরদিন ভোর পাঁচটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান কামরুল। পরে সকাল ৯টায় ফের কামরুল একটি ভ্যান নিয়ে আসেন। একটি স্টিলের আলমারী পরিবর্তনের নাম করে রথীশের লাশ বস্তায় ভরে তা আলমারিতে ভরে ভ্যানে করে তাজহাট মোল্লাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কামরুলের বড় ভাই খাদেমুল ইসলামের নির্মাণাধীন বাড়ির একটি কক্ষে আগে থেকেই বালু খুঁড়ে গর্ত করে রাখা হয়েছিল। বেলা ১১টায় বস্তায় ভরা রথীশের লাশ সেই গর্তে পুঁতে রাখা হয়।

গর্ত খোঁড়ার কাজ করে কামরুলের দুই ছাত্র সবুজ ইসলাম (১৭) ও রোকনুজ্জামান (১৭)। তাদের বাড়িও তাজহাট মোল্লাপাড়ায়। তারা তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ২৬ মার্চ ৩০০ টাকার বিনিময়ে তারা গর্ত খুঁড়ে রাখে। তাদেরকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, কামরুল তাদের শিক্ষক হওয়ায় তারা আদেশ পালন করেছে।

র‌্যাব দীপা ভৌমিক, কামরুল ইসলাম, সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে দুপুরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
রথীশচন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার পর তার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক সুবল বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে দীপা ভৌমিক, কামরুল ইসলাম, সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে এখন এ মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে বলে কোতোয়ালী থানার ওসি বাবুল মিঞা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, লাশের গলায় শুধু দাগ রয়েছে। পরনে শার্ট-প্যান্ট ও পায়ে জুতা পরা ছিল। বিছানার চাদর ও লুঙ্গি দিয়ে লাশ পেঁচানো ছিল।

রথীশের দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে দীপ্ত ভৌমিক ঢাকায় একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি ঢাকায় ছিলেন। আর মেয়ে রিক্তি রানী ভৌমিক রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যাণ্ড কলেজেন নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। ঘটনার রাতে সে তার এক পিসির(ফুপু) বাসায় ছিল। বাবার নিখোঁজের খবর পেয়ে বাসায় আসেন দীপ্ত ভৌমিক।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে রথীশের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বিকেল পাঁচটায় দখিগঞ্জ শ্মশানে রথীশের শেষকৃত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে বলে তার ভাই সুশান্ত ভৌমিক সুবল জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক রথীশ জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। দুটি মামলায় জেএমবি ৭ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয় রংপুরের বিশেষ জজ আদালত। রথীথ এই আদালতের পিপি ছিলেন। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।