Sunday , July 22 2018
Breaking News

সবই পাবেন যে শহরে

। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। একদিকে যেমন দারিদ্র্য ও অনগ্রসরতা, অন্যদিকে তেমন গার্ডেন সিটির মতো আবাসিক এলাকায় কার পার্কের মাথায় সোলার প্যানেল বসানো। আবার রেস্টুরেন্টের ময়লা বেসমেন্টে নিয়ে গিয়ে আলাদা করা হয়৷

গার্ডেন সিটি একটি আদর্শ পরিবেশবান্ধব প্রকল্প– যেমন তার নকশা ও নির্মাণে, তেমনই তার আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থায়৷ আবাসিক এলাকায় প্রতিদিন যে ময়লা ফেলা হয়, তার সবটা গিয়ে জমা হয় পাশের গার্ডেন সিটি শপিং সেন্টারে৷

গার্ডেন সিটি শপিং সেন্টারের ম্যানেজার এডউইন মুগাম্বি বললেন, এদেশে আমরা এখনও শিখছি। কাজেই আমাদের গ্রাহকরা সব কিছু মিশিয়ে ফেলেন। যে কারণে আমাদের হাতে করে সব কিছু আলাদা করতে হয়৷ কিন্তু আমরা গ্রাহকদের ক্রমাগত সচেতন করছি, বর্জ্য আলাদা করার শিক্ষা দিচ্ছি৷ কাজেই আমরা এক বছরের মধ্যে বর্জ্য আলাদা করার প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছে যাব বলে আমাদের আশা৷

পার্কিং গ্যারেজের ছাদে প্রায় ৩ হাজার সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ সোলার ইনস্টলেশনটি আফ্রিকার বৃহত্তম সোলার ইনস্টলেশনগুলির মধ্যে পড়ে৷ এছাড়া সোলার প্যানেলের ছাদের নীচে রাখা গাড়িগুলোও গরম হয় না৷ আর একটা সুবিধেও আছে বলে জানালেন মুগাম্বি। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন, সোলার প্যানেলের চাহিদা যতো বাড়বে, তাদের দামও ততো কমবে, যার ফলে আরও অনেক মানুষ সেগুলো কিনতে পারবেন ও প্রকৃতিদত্ত সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজেদের বাড়িতে বিদ্যুৎ পেতে পারবেন৷

কেনিয়ায় বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল এখনও খুব কমই দেখা যায়৷ শপিং সেন্টারের কার পার্কের সোলার ইউনিটের টাকাও এসেছে শিল্পোন্নত দেশগুলির বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে৷ যে কারণে প্রকল্পের আর্থিক মুনাফা কেনিয়ায় থাকে না৷ ক্রসবাউন্ডারি সংস্থার ম্যানেজিং পার্টনার ম্যাট টিলিয়ার্ড বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগকারীরা সবাই অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে থাকেন৷ আমাদের সোলার ফান্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগের জন্য পূর্ব আফ্রিকা থেকে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু বাস্তব এই যে, আসল পুঁজি শিল্পোন্নত দেশগুলিতেই রয়েছে৷ কাজেই বাইরে থেকে পুঁজি আনা ভবিষ্যতেও আমাদের কাজের একটা বড় অঙ্গ থাকবে৷

আগামীতে গার্ডেন সিটি শপিং সেন্টারের কার পার্কের প্রতিটি সোলার পার্কিং স্পটে ইলেকট্রিক কার-এর জন্য চার্জিং স্টেশন থাকবে, আফ্রিকায় যা অভিনব বললেও কম বলা হয়৷

সূত্র: ডয়চে ভেলে