Wednesday , October 17 2018
Breaking News

এ গরমে জন্ডিস থেকে সাবধান

জন্ডিস মারাত্মক এক রোগের লক্ষণ। কীভাবে আক্রান্ত হয় বুঝাই যায না অনেক সময়। গরমে পানি শূন্যতা বা কম পানি পান থেকেও হতে পারে জন্ডিস। তাই সাবধান আছেন কো আপনি ?

আমাদের রক্তে বিলিরুবিন নামক এক ধরনের পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। তবে জন্ডিস কোনো রোগ নয়। এটি রোগের লক্ষণ মাত্র। জন্ডিসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিভার আক্রান্ত হয়। তাই জন্ডিসের আক্রমণ থেকে বাঁচতে কখনোই হেলাফেলা নয়। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাসগুলো লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে। যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস।

এছাড়াও লিভার সংক্রান্ত রোগ এবং বংশগতসহ আরও কিছু কারণে হতে পারে। অনেক সময় ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারনেও জন্ডিস হয়। মাঝে মাঝে রক্তের নানা সমস্যা, পিত্তনালীর পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও জন্ডিস হতে পারে।

রক্তের লোহিত কণিকাগুলো একটা সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙ্গে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে। যা পরবর্তীতে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তরসের সঙ্গে পিত্তনালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় দেহে কোনো অসঙ্গতি দেখা জন্ডিস ধরা পড়ে। ফলে লিভারের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। তাই,

লক্ষণসমূহ : পজন্ডিসের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হলো চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া। চোখের সাদা অংশ, হাত-পা এর তালু, মুখমন্ডল থেকে শুরু করে সমস্ত শরীরই হলুদ বর্ণের হয়ে যাওয়া।শরীর দুর্বল হয়ে সব সময় ঘুম ঘুম ভাব থাকা।

ক্ষুধামন্দা, অরুচি, বমি ভাব, জ্বর জ্বর অনুভূতি কিংবা কাঁপানি দিয়ে জ্বর আসা, মৃদু বা তীব্র পেট ব্যথা হওয়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে চুলকানি বৃদ্ধি পাওয়া। প্রস্রাবের রং সামান্য থেকে গাড় হলুদ হয়ে যাওয়া।

পায়খানার রঙ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া। ইত্যাদি লক্ষণ গুলো যখনই নজরে পড়বে, অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ চিকিৎসায় দেরি হলে বা অবহেলা করলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

হেপাটাইটিস এ ও ই খাদ্য ও পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। ঢাকায় যারা সাপ্লাইয়ের পানি ঠিক মতো ফুটিয়ে পান না করেন তাদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। বিশেষ করে ব্যাচেলর বা শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এদিকে একদমই খেয়াল করেন না।

আর তারায় বেশি আক্রান্ত হয় এই রোগে। অপরদিকে হেপাটাইটিস বি, সি এবং ডি দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সবসময় বিশুদ্ধ খাদ্য ও পানি খেতে হবে। শরীরে রক্ত নেয়ার দরকার হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে নিতে হবে। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করাটাও খুবই জরুরি।

হেপাটইটিস বি ও এ-এর টিকা আমাদের দেশে পাওয়া যায়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা প্রত্যেকেরই নেয়া উচিত। যারা সেলুনে সেভ করেন, তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আগে ব্যবহার করা ব্লেড বা ক্ষুর আবারও ব্যবহার করা না হয়।