Wednesday , October 17 2018
Breaking News

আমরা কেন হাই তুলি? জানেন কি…

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বাসে বাঁদুরঝোলা ঝুলতে ঝুলতে ফিরছেন বাড়িতে। সামনের একজন আপনার ঠিক মুখের সামনে এসে সারা মুখ উন্মুক্ত করে বিশাল এক হাই তুললো। এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হননি, এরকম মানুষ কমই খুঁজে পাওয়া যাবে।
হাই সবাই তোলেন। মানব শরীরের অন্যতম একটি রহস্য হলো হাই তোলা। বিজ্ঞানের এতো অগ্রগতি হলো, মানুষ এখন মঙ্গলগ্রহে বাড়ি করার কথা ভাবছে, মহাকাশে গিয়ে দিনে ২৪ বার সূর্যোদয় দেখার পরিকল্পনা করছে অথচ এই হাই তোলার রহস্যটি উন্মোচন করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা হাই তোলার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
রিডার্স ডাইজেস্ট ঘেঁটে জানা যায়, মানুষ যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখন থেকেই হাই তোলা শুরু করে।

তবে হাই তোলা নিয়ে নানা ধরনের তত্ত্ব চালু আছে। কেউ বলেন, ঘুম স্বল্পতা হাই তোলার অন্যতম কারণ। ঘুম ধরলে মানুষ হাই তোলে তা কিন্তু ঠিক না। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন আপনি খুব কম সময়ই ঘুমাতে যাবার আগে হাই তোলেন। আর প্রচণ্ড ঘুম এলেই যে হাই ওঠে সেটাও সবসময় ঠিক না। আপনার হয়তো প্রচণ্ড ঘুম পেয়েছে কিন্তু এর মানে এই না যে আপনার হাই উঠবেই।
আবার কারও কারও দাবি, প্রচণ্ড পরিশ্রম করলে মানুষ অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মানুষ হাই তুলে থাকেন। সেটা যদি হয়, তাহলে ফুটবলাররা, রেসলারসহ বিভিন্ন খেলোয়াড়রা হাই দিতে দিতে খেলার মাঠ থেকে বের হতেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, হাই তোলার ফলে আমাদের হৃদপিণ্ডের গতি বাড়ে এবং চোখের পেশীগুলোর উত্তেজনা কমে। এর ফলে আমাদের ক্লান্তি কেটে যায়।
যদিও শারীরতত্ত্বীয়ভাবে বিজ্ঞানীরা হাই তোলার কোনো গুরুত্ব খুঁজে পাননি। তারা মরফিন উইথড্রল এর একটি লক্ষণ হিসেবে এটাকে অভিহিত করে থাকেন। অর্থাৎ নেশাজাতীয় দ্রব্য নিলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর যখন হ্যাংওভার হয়, তখন শরীর থেকে ধীরে ধীরে নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রভাব কমতে শুরু করে। তখন মানুষের হাই ওঠে।

তবে সব বিজ্ঞানীই এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত যে, হাই তোলা মানুষের একটি ‘সংক্রামক’ এবং অদ্ভুত রেসপিরেটরি কর্মকাণ্ড; যেটার শারীরতত্ত্বীয় কোনো গুরুত্ব যদি থেকেও থাকে সেটা অনিশ্চিত।
হাই তোলা নিয়ে এ লেখাটি পড়েও অনেকের হাই আসতে পারে। আসুক না, এলে মন্দ কী! হাই তোলার পর শরীরটা বেশ ঝড়ঝড়ে লাগবে।