Sunday , July 22 2018
Breaking News

অঝোরে কাঁদছেন স্বামী-সন্তান হারা এ্যানি

কাঁদছেন স্বামী-সন্তান হারা এ্যানি- নেপালে বিমান বিধ্বস্তে আহত আলমুননাহার এ্যানী শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে এখন শ্রীপুরের বাড়িতে। কিন্তু ইতিমধ্যে হারিয়েছেন তার জীবনের একটি অংশকে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বেঁচে আছেন বটে, তার কষ্টের প্রহর বাড়াচ্ছে একই দুর্ঘনায় প্রাণ হারানো স্বামী ও সন্তানের নানাধরনের স্মৃতি।

জৈনাবাজারের বাড়িতে এ্যানীর সঙ্গে আলাপকালে উঠে আসে এসব কথা।
এ্যানী জানান, স্বামী-সন্তান হারানোর পর দীর্ঘ প্রায় এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করতে হয়েছে, সে সময়টায় স্বামী ও সন্তানের শূন্যতায় তার কষ্ট বাড়ত, আর এখন তাদের স্মৃতিগুলোই বারবার চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে।

বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা থেকে সবকিছু স্বামী ফারুক হোসেন প্রিয়কের নিজ হাতে গড়া। বাড়ির প্রতিটা কক্ষের আসবাবে রয়েছে তার নিপুণ হাতের ছোঁয়া। আর এ বাড়িতে স্বামী ও সন্তান ছাড়া তাকে থাকতে হবে এটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। হারানো মানুষগুলোর স্মৃতিগুলোই এখন প্রতিনিয়ত কষ্টের প্রহর বাড়াচ্ছে তার।

ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি আলমুননাহার এ্যানী। গত ১০ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই স্বামীর বাড়িতে ওঠেন।

এরপর নিজের কষ্ট কমানোর জন্য একবার ত্রিশালে বাবার বাড়িতে গিয়েছেন। কিন্তু দম বন্ধ হয়ে আসায় সেখানেও থাকতে পারেননি। অবশেষে স্বামী-সন্তানের স্মৃতিময় কষ্টের মধ্যেই থাকার সিদ্ধান্ত নিজের মনকে জানিয়ে দিয়েছেন।

এ্যানী শ্রীপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি আবার পড়াশোনায় মনোযোগী হতে চান, কারণ স্বামী প্রিয়ক চেয়েছিল তার স্ত্রী যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হন, স্বামীর স্বপ্ন পূরণেই তার এখন একমাত্র লক্ষ্য। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা আলমুননাহার এ্যানীর বাকি জীবনটা মানুষের কল্যাণে কাটানোরও স্বপ্ন।প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি বিমানে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে ছিলেন মামাতো ফুফাতো দুই পরিবারের পাঁচ সদস্য। বিমানটি বিধ্বস্ত হলে মারা যান ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও তার শিশুকন্যা তামাররা প্রিয়ন্ময়ী। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান মা আলমুন নাহার এ্যানী।