Sunday , July 22 2018
Breaking News

পরকীয়ায় মত্ত শেফালীর জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো ভয়ঙ্কর সত্য

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাড়ৈপাড়া গ্রামে পরকীয়ার জেরে শিশুপুত্র হৃদয়কে (৯) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের মা শেফালী বেগম।

১৫ এপ্রিল, শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য় আদালতের বিচারক) মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ হক।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও শেফালীর পরকীয়া প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন মিয়াকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

হৃদয় হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম বলেন, ‘নিহত হৃদয়ের মা শেফালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য় আদালতের বিচারক) মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এতে হৃদয়ের মা শেফালী এ হত্যার জন্য সে তার পরকীয়া প্রেমিক মোমেনকে দোষারোপ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত জবানবন্দির দেওয়া কপি আদালতে থেকে পাওয়া যায়নি। জবানবন্দীর কপি পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, এ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে শিশুর মা শেফালী বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানন্দি দেন। অপর আসামী মোমেনকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ কোট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের পর শেফালী বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে জবানবন্দির কপি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। এলে আড়াইহাজার থানায় পাঠনো হবে।’

১৩ এপ্রিল, শুক্রবার ভোরে পরকীয়ার জেরে শেফালীর দু’সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁথায় মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বড় ছেলে হৃদয় (৯) আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। একই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয় ছোট ছেলে জিহাদ (৭)। প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকজন জিহাদকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ায় সে প্রাণে বেঁচে যায়। নিহত হৃদয় উপজেলার ৩৫ নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র ছিল ও অগ্নিদগ্ধে আহত ছোট ভাই জিহাদ একই স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে অধ্যয়ণরত।

শুক্রবার এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী বেগমর ও রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের মা শেফালী বেগম ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকার সুন্দর আলীর কন্যা বলে পুলিশ জানায়।